অনলাইন জুয়ার বিশাল একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এই আটজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামানও রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সিআইডি জানায়, চক্রটি গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করছিল। এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
রোববার ঢাকার মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, জুয়ার সাইটগুলোতে অংশগ্রহণকারীরা বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। পরে এসব অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
তিনি আরও জানান, সাইবার পুলিশের নজরদারির ভিত্তিতে প্রথমে ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর পলাশ ও ঢাকার ধানমন্ডিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় কামরুজ্জামান শুভকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় সিআইডি।
এদিকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, ইতোমধ্যে ১১৬টি অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে তা বন্ধের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রামগঞ্জে কামরুজ্জামানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।


