লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ জেলার পাঁচটি উপজেলার স্থায়ী হাটবাজার ও পশুর হাটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে চরম অবহেলার চিত্র দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাজারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা থাকলেও তা মানছেন না ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
রায়পুরের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ হায়দরগঞ্জ বাজারে গত তিন মাস ধরে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে হায়দরগঞ্জ বাজারে রাতের বেলায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালু করা হয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও কনটেইনারে ময়লা ফেলার সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছিল। শুরুতে এই কার্যক্রম কিছুটা সফল হলেও বর্তমানে তা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এখন দিনের বেলাতেই বাজারের সড়ক ও মোড়ে মোড়ে জমে থাকছে ময়লার স্তূপ।
রোববার (১৭ মে) হায়দরগঞ্জ মাছ বাজার এলাকায় ময়লা ফেলা নিয়ে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন আহত হয়েছেন।
প্রায় চার বছর আগে শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী খোকনের সহযোগিতায় এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বীকার করেছেন, রাতের বেলায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তিনি এ জন্য ইজারাদারদের অসহযোগিতাকে দায়ী করেন। বাজারকে শতভাগ পরিচ্ছন্ন রাখতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, হায়দরগঞ্জ বাজারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ, সিএনজি স্টেশন, একটি কামিল মাদরাসা, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি কিন্ডারগার্টেন, চারটি ব্যাংক, হাসপাতাল, চারটি মার্কেট এবং প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাজার ইজারাদারদেরই এসব বাজার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব। তা না মানলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদরের কাঁচাবাজার, জকসিন, মান্দারি, চন্দ্রগঞ্জ, রামগঞ্জের জিয়া শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন কাঁচাবাজার এবং রায়পুরের হায়দরগঞ্জের বাংলাবাজার, গাজী মার্কেট, মাছ বাজার, গরুর বাজার, পানবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দিনের বেলাতেই ডাস্টবিন উপচে পড়ছে। অনেক স্থানে উন্মুক্তভাবে ময়লা জমে থাকতে দেখা গেছে।
বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা জয়নাল মাল জানান, “মাছ বাজার এলাকায় তিন মাস ধরে ময়লা পড়ে আছে, কিন্তু কেউ তা সরাচ্ছে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন গাজী বলেন, “প্রতি রাতে ময়লা পরিষ্কার করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা খেয়ালখুশিমতো আবর্জনা ফেলছেন।”
এলাকার বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, দিনের বেলাতেও ডাস্টবিনে আবর্জনা পড়ে থাকে। তবে তিনি স্বীকার করেন, স্থানীয়দের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, “শুরুর দিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি দেখা গেলেও এখন তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।”
হায়দরগঞ্জ বাজারের ইজারাদার ইসমাইল মাস্টার ও বাছেদ হাওলাদার জানান, বাজারকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাতের বেলায় নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালু করা হবে এবং শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকবে।
উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ দুলাল হাওলাদার বলেন, “খুব শিগগিরই ময়লা অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে এবং সবাইকে ডাস্টবিন ব্যবহারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার শর্তেই বাজারগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান জানান, বাজারগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

