ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি আবাসিক ভবনে ওই হামলা চালানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী খারগ আইল্যান্ডে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইরানের তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
শনিবার ভোরে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা হামলাগুলোর একটি পরিচালনা করেছে এবং ইরানের “ক্রাউন জুয়েল” খারগ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এতদিন দ্বীপটিকে কেন্দ্র করে পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চলতে থাকায় খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে বলে সাম্প্রতিক এক নোটে জানিয়েছে জেপি মরগান।
ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে দ্রুত বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
খারগ দ্বীপে তেল অবকাঠামোর বড় ধরনের উন্নয়ন হয় ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে, যখন ইরানের উপকূলের বড় অংশ সুপারট্যাঙ্কারের জন্য যথেষ্ট গভীর ছিল না।



