লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে চারটি কবর-লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি এলাকাবাসী।
স্থানীয় চা দোকানী নূর হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“সবসময় শুনেছি একসঙ্গে কবর দেওয়ার কথা, কিন্তু এবার নিজের চোখে দেখলাম। এক পরিবারের চারজন—এমন ঘটনা আমাদের গ্রামে আগে কখনো হয়নি।”
বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়।
নিহতরা হলেন—মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী নিলুফা আফরোজ ঝর্ণা, মেয়ে লাবিবা এবং ছেলে সাহেদ আশরাফ।
তাদের সঙ্গে থাকা ১২ বছর বয়সী আবরার অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও, চোখের সামনে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে এখনো বাকরুদ্ধ।
শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে তাদের।
একসঙ্গে চারটি কবর—এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। স্বজনদের আহাজারি আর গ্রামের মানুষের নীরব চোখের জল—সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর আজ যেন এক নিঃশব্দ শোকের নগরী।


