সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুর জেলায় এক কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে রেজিস্ট্রেশন সনদ, বৈধ ফিটনেস এবং চালকের হালনাগাদ ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত মোটরসাইকেলসহ কোনো প্রকার মোটরযানকে পেট্রোল পাম্প বা ফুয়েল এজেন্সি থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য জেলার সকল পেট্রোল পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনি ভিত্তি ও কারণ:
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৪(১) এবং ১৬(১) অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত মোটরযান চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া আইনের ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ব্যতীত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়নে কড়াকড়ি:
নির্দেশনা অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর জেলার আওতাধীন সকল পেট্রোল পাম্প, প্যাকড পয়েন্ট এবং ডিলারদের সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করে কোনো যানবাহনে তেল না দেয়। এই আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা:
এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট পরিচালনা এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি (লক্ষ্মীপুর আর্মি ক্যাম্প)-কেও চেকপোস্ট পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলায় সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই আদেশটির অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট সকল পৌরসভা ও সরকারি দপ্তরে অবগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও, লাইসেন্স ও ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে বিআরটিএ-এর সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেক চালক ও মালিক। জেলা প্রশাসন আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে সড়কে অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।


