মোবাইল ফোনে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম— আর সেই প্রেমের টানাপোড়েনের মর্মান্তিক পরিণতিতে ঝরে গেল এক তরতাজা প্রাণ। কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলায় প্রেমিকার বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন লক্ষ্মীপুরের এক তরুণ।
মঙ্গলবার বিকেলে হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত মারুফ (১৯) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকাতেরপোল এলাকার বাসিন্দা। তিনি সবুজ মিস্ত্রির একমাত্র ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারুফ পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং বাবার সঙ্গেই কাজ করতেন। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে মিরপুর উপজেলার স্বপ্না নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। বিষয়টি দুই পরিবারের সদস্যরাও জানতেন। তবে কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।
মারুফের খালাতো ভাই মাকছুদুর রহমান জানান, এবারের ঈদে মারুফ ঢাকায় ফুফুর বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে তিনি কুষ্টিয়ায় যান। পরে দুপুরে প্রেমিকার বাড়িতেই বিষপান করেন মারুফ। গুরুতর অবস্থায় প্রেমিকা নিজেই তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বিকেলে ঘটনাটি ঘটলেও রাত পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখা হয়। পরে ওই তরুণীই ফোন করে মারুফের বাবাকে মৃত্যুর সংবাদ জানান।
এদিকে একমাত্র সন্তানের অকালমৃত্যুর খবরে মারুফের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানের শোকে বাবা-মা নির্বাক হয়ে পড়েছেন। স্বজনদের আহাজারিতে বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
স্বজনরা বলেন, “সামান্য মোবাইল ফোনে পরিচয়— সেই সম্পর্ক যে এভাবে জীবনের সমাপ্তি টেনে আনবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।”
মারুফের মরদেহ আনতে তার দুই চাচা ও নিকটাত্মীয়রা কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


