লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জেলেপল্লী গ্রামে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। কুচিয়ামোড়া, ফিশারীঘাট ও নতুনব্রীজ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা চরবংশী বেরিবাঁধ গ্রামজুড়ে রয়েছে প্রায় ১৫টি বাঁশের সাঁকো। এসব সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন বিদ্যালয়গামী শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামটিতে বসবাস করছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। অথচ ন্যূনতম যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খাল, যা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। খালটি গ্রামটিকে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। চলাচলের সুবিধার্থে গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। অনেক পরিবারের ব্যক্তিগত নৌকা থাকলেও সেটি নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরবংশী খাসেরহাট বাজার বেরিবাঁধ মেইন সড়কের বিপরীত পাশে যাতায়াতের জন্য যেকোনো একটি স্থানে সেতু নির্মাণ করা হলে তাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যেত। কৃষকদের মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল মূল সড়কে আনতেই পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।
চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজছাত্র আক্তার হোসেন এবং মো. মালেক বলেন, “একটি সেতুর অভাবে আমাদের প্রতিদিন চরম কষ্ট করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।”
চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সোবহান বলেন, “আমাদের এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ৩০-৩৫টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। কুচিয়ামোড়া, নতুনব্রীজ, ফিশারীঘাট, চরঘাসিয়া, চরইন্দ্রুরিয়া ও চান্দারখাল এলাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসে। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টকর।”
উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক (সহকারী কমিশনার ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, “এ এলাকায় কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হলে কৃষক ও জেলেদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি।”
রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুমন মুন্সি জানান,
“উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা যাবে।”
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ এলাকায় কয়েকটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে পুরো জনপদের জীবনমান, কমবে ঝুঁকি ও দুর্ভোগ।


