লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন জনপদ চর আব্দুল্লাহতে ভ্রমণে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নারী ও শিশুসহ দেড় শতাধিক পর্যটক। শুক্রবার বিকেলে শখ করে ঘুরতে গেলেও রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উত্তাল নদী, ঝোড়ো হাওয়া আর ভাটার কারণে উদ্ধারকারী নৌকা চরে ভিড়তে পারছে না। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত মেঘনার বুকে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করছেন পর্যটকেরা।
মেঘনার চরে আটকা পড়া দেড় শতাধিক পর্যটককে উদ্ধার
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঈদুল আজহার ছুটিতে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার মানুষ রামগতির মেঘনা নদীর বাঁধ এলাকায় ভিড় করেন। এই এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শুক্রবার বিকেলে কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে একদল পর্যটক চর আব্দুল্লাহতে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবহাওয়া বদলে যায়। কালবৈশাখী ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে মেঘনা নদী প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে ওঠে। বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে পর্যটকবাহী ট্রলারগুলো আর মূল ভূখণ্ডের দিকে ফেরার সাহস পায়নি।
রাত সাড়ে ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পর্যটকেরা চরেই অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্ধকারে নদীবেষ্টিত ওই চরে সুপেয় পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান গভীর রাতে বলেন, ‘চরে পর্যটক আটকে পড়ার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে এখন নদীতে ভাটা চলছে। ভাটার সময় পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় এবং বড় বড় ডুবোচরের কারণে সাধারণ ট্রলার নিয়ে সেখানে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমাদের একটি টিম কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। জোয়ার এলে বড় নৌকা বা ট্রলার নিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হবে।’
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক জোরালো কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন চরের পাড়ে অপেক্ষারত স্বজনরা। এ বিষয়ে জানতে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একজন মুঠোফোনে জানান, চরে থাকা নারী ও শিশুরা ঠান্ডায় ও আতঙ্কে কান্নাকাটি করছেন। ঝোড়ো বাতাসের কারণে সেখানে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, উত্তাল মেঘনার কিনারায় স্বজনদের আহাজারি আর চরে আটকে পড়াদের কান্নায় এক ভারী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জোয়ারের অপেক্ষা করলেও এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান কখন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।


