ঈদকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলা জুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলচালক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীরা। সংকট নিরসনে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও মাঠপর্যায়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি, ফলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
জেলা শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগ থেকেই অধিকাংশ পাম্প কর্তৃপক্ষ পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রেখেছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, চাকরিজীবী ও বাইকারদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে খালি ট্যাংক নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
তবে ব্যতিক্রম ছিল শহরের উত্তর তেহমুনী এলাকার মেসার্স মোজাম্মেল হক ফিলিং স্টেশন। ঈদের আগে পর্যন্ত পাম্পটি সীমিত পরিসরে জ্বালানি সরবরাহ চালু রাখলেও বর্তমানে তারাও পেট্রোল ও অকটেন সংকটে পড়েছে। ফলে জেলার একমাত্র ভরসাস্থল হিসেবেও এখন আর জ্বালানি মিলছে না।
সংকটের খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাস সরেজমিনে ওই ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি পাম্পের মজুত ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
পরিদর্শনকালে জানা যায়, পাম্পটিতে বর্তমানে শুধু ডিজেল মজুত রয়েছে। পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় তা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন সরবরাহ এলে বিকেল ৫টার পর থেকে অকটেন বিক্রি শুরু হতে পারে।
অভিযান চলাকালেও পাম্পে পেট্রোল-অকটেন না পাওয়ায় উপস্থিত গাড়িচালক ও বাইকারদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়। অনেকেই প্রশাসনের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাস বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কাটছে না। ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। পেট্রোল ও অকটেননির্ভর যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় অনেকেই জরুরি কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। বিকল্প হিসেবে সিএনজি বা গণপরিবহন ব্যবহার করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের অভিযানেও যখন মিলছে না জ্বালানি, তখন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যে কতটা গভীর—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


