লক্ষ্মীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম লিটন রমজানজুড়ে ব্যতিক্রমী মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছেন। পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে তিনি অসহায়, দরিদ্র ও গরিব দলীয় কর্মীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী এবং ঈদের নতুন জামাকাপড় বিতরণ করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি এমন মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাকে “জনতার মেয়র” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দুঃখ–কষ্টের কথা সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করার প্রবণতা তাকে অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করেছে।
রমজানের শুরু থেকেই প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর। ঈদকে সামনে রেখে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের জন্য নতুন পোশাক বিতরণ করায় পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে কর্মহীন ও অসচ্ছল দলীয় নেতাকর্মীরা এই সহায়তায় বড় ধরনের উপকার পেয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ড নির্বাচনী মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রেজাউল করিম লিটন বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে মানুষের সেবা করার একটি মাধ্যম। লক্ষ্মীপুর পৌরবাসীর সুখ–দুঃখে পাশে থাকাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা
১৯৬৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা রেজাউল করিম লিটনের পিতা হাজী মিয়া ১৯৬০-৭০ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ১৯৬৭-৭০ সালে উপনির্বাচনে এমএলএ নির্বাচিত হন। তার বড় ভাই সাবেক ছাত্রনেতা সাহাব উদ্দিন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠার সুবাদে জনসেবার মানসিকতা তার মধ্যে শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবদলের নেতৃত্ব
রেজাউল করিম লিটনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রদলের মধ্য দিয়ে।
-
১৯৮৪: সামাদ একাডেমী ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত।
-
১৯৮৮: ভোটে পৌর ছাত্রদলের সভাপতি।
-
১৯৮৯: লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত।
-
১৯৯৩: জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক।
-
১৯৯৫: জেলা ছাত্রদলের সভাপতি।
ছাত্ররাজনীতির পর যুবদলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন:
-
১৯৯৮: জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
-
২০০৫: সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।
-
২০১৬: পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী।
-
২০১৮: জেলা যুবদলের সভাপতি।
-
২০২২: পুনরায় আহ্বায়ক নির্বাচিত।
-
২০২৩: আহ্বায়ক পদ থেকে সরে এসে পৌর বিএনপির নির্বাচনে বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচিত।
আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রেজাউল করিম লিটন বহু আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। কারাবরণ এবং পুলিশি নির্যাতন সহ্য করেও তিনি মাঠের রাজনীতি ছাড়েননি। ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন।
মানবিকতায় ব্যতিক্রমী
শুধু রমজান মাসে নয়, সারা বছর তিনি পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ড ঘুরে অসহায়, দরিদ্র ও গরিব দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। বিগত বছরগুলোতে তিনি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং শিশুদের জন্য নতুন পোশাক উপহার দিয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে “জনতার মেয়র” আখ্যা দিয়েছেন। এই উদ্যোগে পরিবারের জন্য ঈদের আনন্দ ফিরে এসেছে, বিশেষ করে কর্মহীন ও অসচ্ছল দলীয় নেতাকর্মীরা এর সুফল পেয়েছেন।
জনপ্রিয়তা ও গণসংযোগ
তার নিবিড় গণসংযোগ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে স্থানীয় ভোটারদের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের শক্ত অবস্থান এবং মানবিক কার্যক্রম তাকে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রাখবে।
রমজানজুড়ে মানবিক কর্মকাণ্ড
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং তৃণমূল নেতৃত্ব—সব মিলে রেজাউল করিম লিটনকে লক্ষ্মীপুর পৌর নির্বাচনের এক শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শহরের মানুষ তাকে শুধুই একজন প্রার্থী নয়, বরং “জনতার মেয়র” হিসেবে দেখছেন।


