গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

লক্ষ্মীপুরে চাকা থমকে আছে ট্রাকের, দিশেহারা চালক হারুনুর রশীদ

Link Copied!

লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় বর্তমানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে টানানো হয়েছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে, বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার সরবরাহ ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলনগর, রামগঞ্জ, রায়পুর, রামগতি এবং সদর উপজেলার প্রায় সবকটি পেট্রোল পাম্প এখন জ্বালানি শূন্য। শহরের নামী-দামি পাম্প যেমন—ফিরোজ পেট্রোল পাম্প, ধরিত্রী পেট্রোল পাম্প কিংবা উত্তর ও দক্ষিণ তেমুহনী এলাকায় কোনো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি পাম্পে ইফতারের পর সামান্য তেল মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।

তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ড্রাইভার হারুনুর রশীদ তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পাম্পে পাম্পে ঘুরছি কিন্তু কোথাও ডিজেল নেই। কখন তেল আসবে, আদৌ আসবে কি না—তা কেউ বলতে পারছে না। আমাদের চাকা ঘুরলে পেট চলে, কিন্তু তেলের অভাবে এখন রাস্তায় বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। এতে করে আমাদের আয় যেমন বন্ধ হচ্ছে, তেমনি সময়মতো মালামাল পৌঁছাতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পুরো সাপ্লাই চেইন বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে।”

হারুনুর রশীদের মতো একই সংকটে পড়েছেন মিলন হোসেন নামে আরেক চালক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “বাজারে তেল নেই, গন্তব্যে পৌঁছাব কীভাবে? প্রতিদিন মাইলের পর মাইল ঘুরেও তেল মিলছে না।”

এদিকে মোটরসাইকেল চালকদের অবস্থাও শোচনীয়। হাসান মাহমুদ নামের এক চালক জানান, তিনি ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে উত্তর তেমুহনী পাম্পে এসে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন। অনেকের কপালে তাও জুটছে না।

উত্তর তেমুহনীর মেসার্স মোজাম্মেল হক পেট্রোল পাম্পে ইফতারের পর কিছু সময়ের জন্য তেল দেওয়া হলেও সেখানে ট্রাক বা বড় যানবাহনের ঠাঁই হচ্ছে না। কেবল মোটরসাইকেলই হিমশিম খাচ্ছে সীমিত তেলের লাইনে। ফলে সড়কের দুই পাশে তেলের অপেক্ষায় ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও স্থবির হয়ে পড়বে। স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই জ্বালানি সংকট নিরসনে কোনো স্থায়ী পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেননি।

অন্ধকার পাম্প আর তেলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলোর নিস্তব্ধতা যেন লক্ষ্মীপুরের থমকে যাওয়া অর্থনীতিরই প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 298

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…