মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব–এর সঙ্গে সময়ের মিল রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার ১১টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। ভিন্ন আয়োজন হলেও উৎসবের আমেজে ছিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মিলনমেলা।
জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, হোটাটিয়া, শরশোই ও কাঞ্চনপুর এবং রায়পুর উপজেলার কলাকোপা ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বশিকপুরসহ মোট ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার মুসল্লি পৃথক ব্যবস্থাপনায় ঈদ উদযাপন করেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ঈদের নামাজ শেষে শিশুদের কোলাকুলি
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। নামাজে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
এছাড়াও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব তালিমুল কুরআন নূরানি মাদ্রাসা ঈদগাহ, পূর্ব বিঘা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পশ্চিম নোয়াগাঁও জামে মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

লক্ষ্মীপুরে ঈদের নামাজ পড়ছে মুসল্লীরা
স্থানীয়রা জানান, এসব গ্রামের মুসল্লিরা নিজ নিজ ঈদগাহ মাঠে পৃথক জামাতে নামাজ আদায় করে থাকেন। ঐতিহ্যগতভাবে তারা মক্কাও মদিনার সময়সূচি অনুসরণ করে ধর্মীয় উৎসব পালন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রখ্যাত আলেম মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারী হিসেবে এসব অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
প্রায় ৪৬ বছরের ঐতিহ্য ধরে এ ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদির সঙ্গে সময়ের সামঞ্জস্য রেখে ঈদ উদযাপনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুশাসন ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মুসল্লিরা।


