ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অভিযোগ উঠেছে, ঈদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, মাত্র দুই দিন আগেও গরুর মাংস প্রতিকেজি ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদের আগের দিন সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১,০০০ টাকায়। রমজানের আগে একই মাংসের দাম ছিল ৮৫০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা। হাঁড়সহ গরুর মাংস বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়, যা দুই দিন আগেও ছিল ৮০০ টাকা এবং রমজানের আগে ছিল ৭৫০ টাকা।
এদিকে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১,৩০০ টাকায়। মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বয়লার মুরগি ২৩০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে জকসিন বাজার ও উত্তর তেমুহনী এলাকার মাংসের দোকানগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে বিক্রেতারা বেশি দামে মাংস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গরুর মাংস না কিনে মুরগি কিনতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, “গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে মুরগি কিনতে এসেছি। কিন্তু এখানেও আগের চেয়ে বেশি দাম দিতে হচ্ছে।”
ক্রেতা নুর মোহাম্মদ জানান, “ঈদ সামনে এলেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজারে তদারকি না থাকায় আমরা সাধারণ ক্রেতারা জিম্মি হয়ে পড়ি।”
খাসি বিক্রেতা আরিফ হোসেন জানান, “খামার ও পাইকারি বাজারে খাসির দাম বেড়েছে। পরিবহন খরচও বেশি। তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
গরুর মাংস দোকানি ইসমাইল হোসেন জানান, “আমরা নিজেরা দাম বাড়াই না। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়ছে।”
মুরগি ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম জানান, “ঈদ উপলক্ষে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি।”
ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, ঈদ সামনে থাকায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে মাংস কিনতে হচ্ছে। অনেকেই গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগি কিনতে গেলেও সেখানেও বেশি দাম গুনতে হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম আর্থিক চাপে পড়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় প্রতি বছর ঈদের আগে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নূর হোসেন রুবেল বলেন, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের দাবি, ঈদের আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জোরালো অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হোক, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে না পারে।


