বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির যে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল, তা ছিল খাল খনন কর্মসূচি। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমাকে সারাবাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে কয়েকটি মিটিং করতে হয়েছে। এরপর নির্ধারিত সময়ে দিনাজপুরের কাহারু উপজেলার সাহাপাড়া খাল খননের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। যা এক সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখানে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে এমপি-মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। এটি বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের প্রকল্প।
এরপর আগামী ৫ বছরের জন্য আরও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি যোগ করে এর সুফল দেশবাসীকে দেওয়া হবে। বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমিরও খাল খনন কর্মসূচীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের কালেক্টরেট স্কুল মাঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীলদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদের বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এমপি হিসেবে শপথও নিয়েছি। কিন্তু কখনো জুলাই সনদ পাশ করার মাধ্যমে আমাদেরকে শপথ নিতে হবে—এ ধরনের কোনো আলোচনা কখনো ছিল না এবং নেইও। তবে হ্যাঁ, যেহেতু জয়লাভ হয়েছে, অটোমেটিক পার্লামেন্টে বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে ‘হ্যাঁ’-এর কার্যকরিতা শুরু হয়ে যাবে। এর মানে এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেখিয়েছে, সেটি সংসদে আলোচনা হওয়ার পর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কখনো পজিটিভ বা কখনো নেগেটিভ হবে।
তিনি বলেন, এই পার্লামেন্ট দীর্ঘদিন দেশবাসীর কাছে অনুপস্থিত ছিল। বিগত ১৭ বছর কোনো নির্বাচন হয়নি, কিন্তু পার্লামেন্ট ছিল। সেই সময় পার্লামেন্টে জনগণের জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের আলাপ-আলোচনা ছিল না। এজন্য বর্তমান পার্লামেন্ট অনেক গুরুত্বপর্ণ; জনগণের প্রতি সম্মান রেখে তাদের কাজ তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এটাই এখন সরকার দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, মতের দিমত থাকতে পারে, তবে উভয় দল মিলে আমরা যে ঐক্যটি নিয়ে আসবো, সেটি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য মঙ্গল হবে। কারণ সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই মিলে এতো বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও তিতিক্ষার পর আজকের যে দেশটি পেয়েছি, সেটি আবার নতুনভাবে গড়তে হবে। নতুনভাবে গড়তে বিএনপির এককভাবে সম্ভব নয়; সবার সহযোগিতা লাগবে। তাই প্রয়োজন তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের নবনিয়ুক্ত প্রশাসক মো. শাহাবউদ্দিন সাবু, জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এ. আর. হাফিজ উল্যাহ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমানসহ অনেকে।


