দেশে রাষ্ট্রের সাহায্য ও অনুদানের সঠিক বণ্টন নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। “রাষ্ট্রের সহায়তার প্যাকেটগুলো কোথায় যাচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন জনগণের। বিএনপি কি শুধু অসহায়দের দল? সব দরিদ্র কি শুধু তাদের মধ্যেই আছে? আমরা চাই, সরকারের দান-অনুদান সবার কাছে পৌঁছাক।”– বলেছেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের জামায়াতের সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর সদর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রায় এক হাজার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, “আগে আমরা দান-অনুদানের প্রকৃত তথ্য জানতাম না। এখন, দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিরোধী দল হওয়ায় বিষয়গুলো সহজে সামলানো সম্ভব নয়। আমাদের এমপিরা সকল দলের নেতাদের নিয়ে দান-অনুদান বিতরণ করছেন, কিন্তু আমরা জানতে চাই, তা ঠিক কাদের জন্য হচ্ছে। আমরা যে সহায়তা দিচ্ছি, তা আমাদের নেতাকর্মীদের তহবিল থেকে; কিন্তু যে সহায়তা বিতরণ হচ্ছে, তা রাষ্ট্রের অর্থ থেকে। সুতরাং, এটি সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছানো উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা এই রায়ের বিরোধিতা করছেন, তারা জনগণের অবস্থানের বিপরীতে অবস্থান করছেন।” নির্বাচনী প্রসঙ্গ টেনে তিনি যোগ করেন, “দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, তবে এটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেসব দল ভোট নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে, তারা নিজেই সেই বিতর্কের সূচনা করেছে।”
ড. রেজাউল করিম আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের নেতারা ফাঁসির মঞ্চে ছিলেন, আর আমরা সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
শহর জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় অসহায় মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশানের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্লাহ পাটোয়ারী, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহিরুল ইসলাম, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ এবং শ্রমিক কল্যাণ শহর শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মিরনসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সদর উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাস জুড়ে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০ হাজার অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা হবে।


