অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে অপরাধীদের জরিমানা ও সতর্ক করা হলেও বাজার ও মার্কেটে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বন্ধ হচ্ছে না।
গত এক মাসে (রমজান) ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরে মোট ৯২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২০৬টি মামলায় ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে।
গত কয়েক দিনে রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট, মুদি দোকান ও কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়—অতিরিক্ত মুনাফা ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা। আইন মানার বিষয়ে অনেক ব্যবসায়ীরই তেমন তোয়াক্কা নেই।
বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক ও সাধারণ ক্রেতারা বলেন, দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি। ভোক্তারা যেন তাদের কাছে বন্দি হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দেশের আইন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও কার্যকরভাবে সফল হতে পারেনি।
তারা আরও বলেন, বর্তমান কাঠামোতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভোক্তাদের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছাড়া অন্য কোথাও সরাসরি অভিযোগ করার সুযোগ নেই।
ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি—স্বতন্ত্র ‘ভোক্তা মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হোক। কিন্তু এখনো সেই দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রয়োজনে এ দাবি আদায়ে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান অনেক ভোক্তা। আপাতত ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ গঠন করা জরুরি বলেও তারা মনে করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে গুরুতর ঘটনা চিহ্নিত করে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় এনে আদালতে ফৌজদারি মামলা করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভা যৌথভাবে বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের জন্য জরিমানা ও সতর্ক করা হলেও অসাধু ব্যবসায়ী চক্রকে পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের ঠকিয়ে কোটিপতি হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক হোটেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হয়, বাসি খাবার পরিবেশন করা হয়। পোশাক তিনগুণ দামে বিক্রি, গুঁড়া দুধে ময়দা মেশানোসহ চিনি, সয়াবিন ও চাল নিয়ে নানা কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসবের সঙ্গে জড়িত অনেকেই শাস্তির আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, রমজান ও ঈদুল ফিতরকে নির্বিঘ্ন করতে লক্ষ্মীপুরে এখন পর্যন্ত ৯২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২০৬টি মামলায় ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, রমজান শুরুর আগেই অভিযান জোরদার করা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আগাম মতবিনিময় সভা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে তদারকি বাড়ানোয় বাজারে ভোক্তারা কিছুটা সুফল পেয়েছেন এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তির সঙ্গে রমজান মাস পার করতে পেরেছেন। মাসব্যাপী শুরু হওয়া অভিযান এখনো খুচরা ও পাইকারি দোকান, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড ও টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে। লক্ষ্মীপুরবাসীর ঘরে ফেরা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।


