তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজা উপত্যকায় আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিমান ও ট্যাংক হামলায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বুধবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকার একাধিক এলাকায় দখলদার বাহিনীর এই হামলা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানায়, গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলীয় জাইতুন ও তুফাহ এলাকায় গোলাবর্ষণে প্রাণ হারান অন্তত ১৪ জন। নিহতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে।
আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের জন্য স্থাপিত তাঁবুতে হামলায় আরও চারজন নিহত হন। একই দিনে আল-মাওয়াসি উপকূলীয় অঞ্চলের একটি তাঁবু শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারান।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে জরুরি সেবাকর্মী হুসেইন হাসান হুসেইন আল-সুমাইরিও রয়েছেন, যিনি হামলার সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় কার্যকর হওয়ার পর এটিই অন্যতম বড় প্রাণঘাতী হামলা। ইসরায়েল দাবি করেছে, উত্তর গাজায় তাদের এক রিজার্ভ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর পাল্টা বিমান হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েলো লাইন এলাকায় নিয়মিত অভিযানের সময় ওই কর্মকর্তা আহত হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত চার মাসে ইসরায়েলি হামলায় ৫২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭১ হাজার ৮০৩ জনে।



