বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল বলে মন্তব্য করে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন দলটি সন্ত্রাস ছাড়া কিছু বোঝে না। বিএনপি-জামায়াত মানুষকে কিছু দিতে পারে না। তাদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করুন।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেলপথে ট্রেন চলাচল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে সুযোগ দিয়েছিল বলেই দেশের উন্নয়ন করতে পারছি। জনগণকে বলবো, সন্ত্রাসী বিএনপি-জামায়াতের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করুন। এরা সৃষ্টি নয়, ধ্বংস করতে পারে। লুটপাট করতে পারে; কিন্তু মানুষকে কিছু দিতে পারে না। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল। তাদের কাজ ধংস করা। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারাই হলো তাদের আন্দোলন।
আরও পড়ুন- লক্ষ্মীপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা : আসামি ৩৫০০
তিনি বলেন, ‘এদের হাত থেকে দেশবাসী রক্ষা পাক, সেটাই আমরা চাই। আমরা তাদের রাজনীতিতে বাধা দিচ্ছি না। তবে রেল ও মানুষের কোনো ক্ষতি করলে, তারা কিন্তু ছাড়া পাবে না। সব জায়গায় আমাদের ক্যামেরা থাকবে। একেবারে বেছে বেছে, ছেঁকে ছেঁকে তাদের শাস্তি দেয়া হবে।’
নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে রেলখাতের সম্পদ ধ্বংস করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আসলে ওরা সন্ত্রাসী দল, ওরা এটা ছাড়া কিছুই বোঝে না। এদের কাজই হলো ধ্বংস করা।’
বিএনপি বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রেলখাতকে প্রায় বন্ধের পথে নিয়ে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে যত পরামর্শ দিক না কেনো এই মাটি ও মানুষের ভালোমন্দ বুঝি। কে কোন পরামর্শ দিলো, তা শুনে উন্নয়ন করে না আওয়ামী লীগ সরকার। আমাদের দেশের মানুষের মঙ্গল-অমঙ্গল বুঝে বা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি আমরা।’
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপির দুঃশাসন ও অপকর্মের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
২০১৪ সালের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।
আরও পড়ুন- ফ্রান্সে দাঙ্গার দায়ে ৭০০ জনকে কারাদণ্ড
২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি এবং প্রকল্প এলাকার কসবা ও সালদা নদী অংশে প্রতিবেশী দেশের (ভারত) আপত্তিতে নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করতে পারেনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর কাজ হচ্ছে- এমন অজুহাতে বিএসএফ বাধা দিয়েছিল।
আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের মার্চে আবার কাজ শুরু হয় এবং দ্রুতই সেটি শেষ করা হয়।
আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার অংশে আগে একটি রেললাইন ছিল। এখন দুই লেন করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াত সময় পৌনে এক ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।



