ঘুষ গ্রহণ, প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও নানা প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের দায়ে আবারও বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. ইকবাল হোসেন। একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠা এবং গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে এই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত (১৩ অক্টোবর) এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের ‘নিয়োগ ও পদায়ন শাখা’ থেকে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়, প্রকৌশলী ইকবালের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও সরকারি তহবিল তছরুপের সার্বিক অভিযোগ তদন্তে এলজিইডি নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে ‘তদন্ত কর্মকর্তা’ নিয়োগ করা হয়েছে। আদেশের চিঠি প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নথি ও এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার ঘুষ গ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় নোয়াখালী অঞ্চলের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই প্রতিবেদনের পরিণতি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সুশীল সমাজের অভিযোগ, অতীতে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনগুলো রহস্যজনকভাবে ধামাচাপা পড়ায় এবং দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই কর্মকর্তা বারবার অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সংস্থাটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক কর্মকর্তা বলেন, সদর উপজেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পুনর্গঠিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আগের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (শৃঙ্খলা ও তদন্ত) মো. আমিনুর রহমান বলেন, তাঁর (মো. ইকবাল হোসেন) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


