রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে চরম থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বহিরাগতদের প্রবেশ ও যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারিসহ আইনি সহযোগিতার জন্য পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জবিতে জকসু নেতা ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিরাগত ও যানবাহন প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি, দর্শনার্থী, বহিরাগত ব্যক্তি এবং বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক আইনি সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় তাজহাট থানায় চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ আগস্ট রাতে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহতসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এই সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং সভা-সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ফলে নতুন করে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারিসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে শিবির আয়োজিত এক চিত্র প্রদর্শনীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নিহত বিএনপি নেতাদের ছবি সংবলিত ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার টাঙানো হয়। ওই ব্যানারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তাক্ত হামলায় রূপ নেয়।


