লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন আদায়ের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে তদন্ত চলাকালেই নিজের পক্ষে ঠিকাদার এনে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে নিজ জেলায় কর্মরত থাকা এবং একাই তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদে অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করেন এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল ও উজ্জ্বল চৌধুরী।
তদন্তে প্রথমে কয়েকজন ঠিকাদারের পৃথক বক্তব্য নেওয়া হয়। পরে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনোয়ারা অ্যান্ড ফাল্গুনী ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী জহির হাওলাদারের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য গ্রহণ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
জহির হাওলাদারের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে ঘুষ দাবির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছেন এবং বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। তবে তদন্ত শুরুর আগেই উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন নিজের পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদারকে এনে তাঁর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করেন।
এদিকে মেসার্স খাদিজা এন্টারপ্রাইজ–এর স্বত্বাধিকারী মো. বাবলু পাঠান মুঠোফোনে বলেন, প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। লোক মারফত আমাকে এবং আরও কয়েকজনকে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে তাঁরপক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছিল। আমার সঙ্গে আরও দুজন সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন।
অভিযোগকারী ঠিকাদার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনকে সদর উপজেলা থেকে অপসারণের দাবিও জানান।
এদিকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ জেলায় পদায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় পর বদলি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পরও ইকবাল হোসেন লক্ষ্মীপুরেই বহাল রয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি একাই তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ করছেন, তিনিই অপরাধী।
তদন্ত কর্মকর্তা এ এস এম মহসীন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন এলজিইডি সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নির্মাণাধীন মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ‘৫ শতাংশ’ অলিখিত কমিশন নেওয়া হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১৫ জুলাই এলজিইডি সদর দপ্তর অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিল আটকে রেখে কমিশনের চাপ সৃষ্টি, একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থেকে প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদার ও অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন।


