আজ বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত স্মরণসভায় এ কথা বলেন তিনি ।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আমলে কয়টা সরকার ছিল? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটা আর হাওয়া ভবনে একটা। তারা দেশের কোনো উন্নয়ন করেনি। ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করলাম। তখন ৪০ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য ঘাটতি ছিল। এতে বোঝাই যায় খালেদা জিয়া তার আমলে কোনো ফসলই উৎপাদন করতে পারেনি।
আরও পড়ুন- লক্ষ্মীপুরে অটোরিকশা চাপায় শিশুর মৃত্যু
আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ এজন্য তার ভাই-বোন এবং বোনের জামাই আমার কাছে আবেদন করেছে তাকে বাড়িতে রাখার জন্য। এ জন্য মানবিক কারণে তার সাজা স্থগিত করে বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছি। এখন যদি বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে আবার তাকে জেলে পাঠিয়ে দেব।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাত বছরের জেলের বিষয়টি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এই মামলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ বিএনপির প্রিয় লোক ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের দেওয়া মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছিল।
বিএনপি-জোট সরকারের আমলের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা তো এর প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা আইনগতভাবে অপরাধীদের বিচার করেছি। আজ তাদের কী অবস্থা? আজ দেখি গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যে দলের জন্ম সেনা শাসকের পকেট থেকে, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের দ্বারা যাদের জন্ম, তারা আবার গণতন্ত্র উদ্ধারটা কী করবে? সেটাই আমার প্রশ্ন।
আরও পড়ুন- রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনে পানির লাইন কেটে দেওয়ার অভিযোগ
বিএনপির গণতন্ত্রের কথা শুনে কিছু লোক তাদের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, এদের জ্ঞান-বুদ্ধি কোথায় থাকে? তারা কি বাস্তবটা বুঝতে পারে না? আর নেতৃত্ব কোথায়? বিএনপি লাফালাফি করছে, তাদের নেতা কই?
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা থেমে যায়নি। তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছিল। কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্ত্র নিয়ে ঢোকা যায় না। কিন্তু, তারা অস্ত্র নিয়ে ঢুকেছিল। গণভবন থেকে সেই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। খুনি মোশতাক-জিয়াই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। জিয়া এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল বলেই মোশতাক রাষ্ট্রপতি হয়েই জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান বানিয়েছিল।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জি. মোশারফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন মায়া, দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জাহান কল্পনা প্রমুখ।



