লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের বাজারদর কম থাকায় বুরো ধান চাষি কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারি ধান কেনার জন্য কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ৮০০ টাকায় ধান বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
সার, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ধানের বাজারমূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। চলতি মৌসুমে রোপা বুরো ধান কাটার শুরুতে দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও পরে স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের কথিত সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিদিন মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাচ্ছে। এতে অনেক কৃষক লোকসানে পড়েছেন এবং ঋণ পরিশোধ নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
জানা যায়, সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে স্থানীয় মোল্লারহাট বাজার, হায়দরগঞ্জ ও হাজিরহাটসহ কয়েকটি হাটবাজারে কৃষকেরা জানান, প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারি দামের তুলনায় অনেক কম।
রায়পুর উপজেলার কৃষক সিরাজ ঢালি বলেন, “আমার জমিতে এবার বুরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশপাশের সবারই ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি, বরং দিন দিন কমছে।” তিনি অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা করছেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রতি বিঘায় ধান কাটতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকলেও এখন অসাধু ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের কারণে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
আরেক কৃষক সোবহান ঢালি বলেন, “আমি এবার তিন বিঘা জমিতে বুরো ধান চাষ করেছি। সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। এই অবস্থায় ন্যায্য দাম না পেলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”
কৃষক হাবিব উল্লাহ বলেন, “শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ধান কাটা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। বাজারে দাম আরও কমতে পারে—এই শঙ্কায় আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং নগদ টাকার সংকটের কারণে দাম স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না। মিল মালিকরাও নতুন ধান কেনা শুরু করেননি বলে তারা জানান।
রায়পুরের হায়দরগঞ্জ ও মোল্লারহাট বাজারের ব্যবসায়ী একরামুল কাজী ও মাহমুদ হোসেন বলেন, “গত মৌসুমের ধান-চাল এখনো মজুত আছে। মিলাররা এখনো নতুন ধান কেনা শুরু করেননি। ফলে বাজার নিম্নমুখী।”
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, “এখনো উপজেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটা হয়েছে, বাকি রয়েছে মাড়াই। ধান কাটার গতি বাড়ায় সরবরাহও বেড়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বুরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল

