গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি ও প্রকৃতি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচন
  13. প্রবাসের খবর
  14. ফিচার
  15. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  16. বিনোদন
  17. বিশেষ প্রতিবেদন
  18. রাজনীতি
  19. শিক্ষাঙ্গন
  20. শেখ হাসিনার পতন
  21. সম্পাদকীয়
  22. সারাদেশ
  23. স্বাস্থ্য
  24. হট আপ নিউজ
  25. হট এক্সলুসিভ
  26. হাই লাইটস

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই লক্ষ্মীপুরের কৃষকের: খরচের টাকা উঠছে না, সিন্ডিকেটের থাবায় দিশেহারা

Abdur Rahman Ayan
May 12, 2026 1:33 pm
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন বোরো ধানের সোনালি হাসি। মেঘনার চরাঞ্চল থেকে শুরু করে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু সেই সোনালি ধান ঘরে তুলতেও কৃষকের মনে নেই কোনো আনন্দ; বরং চোখেমুখে কেবলই হাহাকার আর ক্ষোভ। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে ধানের অস্বাভাবিক দরপতন—এই দুয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, সদর, রামগতি ও কমলনগরের কয়েক লাখ কৃষক।

সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি মণ ধানের দাম ১,৪৪৪ টাকা (৩৬ টাকা কেজি) নির্ধারণ করলেও লক্ষ্মীপুরের কোনো উপজেলাতেই কৃষক সেই দাম পাচ্ছেন না। উল্টো আড়তদার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে ধানের বাজার পড়ে গেছে। এলাকাভেদে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

সোমবার রায়পুর-লক্ষ্মীপুর বেড়িবাঁধ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর ধান শুকাচ্ছেন কৃষকরা। রামগতি উপজেলার মেঘনার চরের কৃষক আব্দুর রহমান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘নদীর লগে যুদ্ধ করি বাঁচি, আর এহন যুদ্ধ করন লাগে বাজারের লগে। কামলার (শ্রমিক) মজুরি আর সারের দাম মিলাইতে গিয়া আমরা শেষ। ১,৪০০ টাকার ধান ৮০০ টাকা বেচতে অইলে আমরা সামনের বছর খামু কী, আর কিস্তি দিমু কেমনে?’

একই চিত্র উপকূলীয় কমলনগর উপজেলায়। সেখানকার কৃষক শাহজালাল আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিঘা প্রতি ধান কাটতেই ৫-৬ হাজার টাকা খরচ। অথচ বাজারে গেলে আড়তদারেরা সিন্ডিকেট করে দাম কমায় দিচ্ছে। তারা কয় ধান নাকি বেশি হইছে, মিল মালিকেরা নেয় না। সরকারের দাম তো কেবল কাগজে-কলমেই আছে, বাজারে তার হদিস নাই।’

জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটার ধুম পড়লেও শ্রমিকের চড়া মজুরি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। রামগঞ্জের কৃষক সেলিম বলেন, ‘উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর সার আর বিষের (কীটনাশক) দাম তো আগেই বেড়েছে। এই অবস্থায় ৯০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করলে আমাদের প্রতি বিঘায় হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে। আমরা চাষিরা কী করব, কার কাছে বিচার দেব?’

রায়পুর উপজেলার চিত্র আরও ভয়াবহ। এখানকার মোল্লারহাট, হায়দরগঞ্জ ও হাজিমারা বাজারে প্রতিদিন ধানের দাম মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে কমছে। রায়পুরের কৃষক সিরাজ ঢালি অভিযোগ করেন, ‘মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা মুখ দেখে দেখে সরকারি তালিকার জন্য কৃষকদের নাম নিচ্ছেন। সাধারণ কৃষকেরা তালিকায় নাম লেখাতে পারছেন না।’ আরেক কৃষক সোবহান ঢালি বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে ফসল ফলাইলাম, এখন ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ঘরে খাবার জুটবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাটছে।’

এদিকে বাজার নিম্নমুখী হওয়ার জন্য ভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রায়পুরের হায়দরগঞ্জ ও মোল্লারহাট বাজারের ধান ব্যবসায়ী একরামুল কাজি ও মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমের চাল এখনো মিলগুলোতে মজুত আছে। মিল মালিকেরা এখনো নতুন ধান কেনা শুরু করেননি, যার কারণে বাজারে নগদ টাকার সংকট রয়েছে। সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।’

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে শুধু রায়পুরেই ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘অর্ধেকের বেশি ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষকদের ৮০০ টাকায় ধান বিক্রি না করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।’

তবে কৃষকদের দাবি, কেবল পরামর্শ নয়, বরং সরকারি ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে মহাজন ও এনজিওর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে লক্ষ্মীপুরের হাজার হাজার কৃষকের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

Abdur Rahman Ayan

সর্বমোট নিউজ: 5

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…