লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বিবিরহাট ও চৌমুহনী এলাকায় অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম মজুত ও বিক্রয়বিরোধী এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩০ মার্চ) পরিচালিত এই মোবাইল কোর্টে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত পেট্রোল তাৎক্ষণিক বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স ব্যতীত পেট্রোলিয়াম মজুত এবং নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করে জ্বালানি তেল বিক্রয় করার অপরাধে ‘পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত মো. রাশেদ হোসেন ও মো. রিয়াজ উদ্দিনকে মোট দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান।
অভিযান চলাকালে বিবিরহাট ও চৌমুহনী এলাকার দোকানগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৪০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই পেট্রোল সাধারণ মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তাৎক্ষণিক বিক্রির নির্দেশনা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি না করার মর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে এলাকার একটি নিবন্ধিত পেট্রোল পাম্পও তদারকি করা হয়। তবে সেখানে জ্বালানি মজুত বা বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের অসঙ্গতি বা অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান জানান, “জনস্বার্থ রক্ষায় এবং জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে। লাইসেন্সবিহীন দাহ্য পদার্থ মজুত করা যেমন দণ্ডনীয় অপরাধ, তেমনি এটি জননিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।”
উক্ত অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরণের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


