তিনি নাকি সেন্টমার্টিন দিলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। সেন্টমার্টিন দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারলে আগেই দিয়ে দিতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্য জেরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমেরিকা তো সেন্টমার্টিন নিয়ে কথা বলেননি। তারা বলেছে, এই দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে।

শুক্রবার (২৩ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী অডিটোরিয়াম হলে “বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থার গুরুত্ব” বিষয়ে আগামীর বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন- লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফ সহায়তা পেলো ৫ হাজার পরিবার
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য হয়েছিল। তখন স্বাধীনতার কথা উঠে আসেনি। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ডাক না দিতেন তাহলে কিন্তু এই দেশ স্বাধীন হতো না। কারণ সেই সময়ের আওয়ামী নেতারা সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে জিয়াউর রহমানের ডাক শুনে ফিরে এসেছেন।
‘যেখানে আওয়ামী লীগ থাকে, সেখানে গণতন্ত্র থাকে না’ বলেও এসময় মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
ধর্মীয় বিশ্বাস মানেই কি জঙ্গিবাদ?- প্রশ্ন রেখে গয়েশ্বর বলেন, ‘ভারত তো হিন্দুত্ববাদ কায়েম করছে, অথচ মুসলিম দেশ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ নামাজ, আযান দিতে পারবে না, এটা তো হয় না।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে কথা বলেছেন, যদি পশ্চিমা গার্মেন্টস শিল্প বা পোশাক রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তখন কি হবে? এ দেশের অর্থনীতির কি হবে? গার্মেন্টস শিল্পের যে মেশিন গুলো আছে, সেগুলোর কি হবে। সেগুলো তো লোহা হিসেবে বেচতে হবে। জানি না, প্রধানমন্ত্রী কেন এভাবে কথা বলছেন। তিনি নিজের টা বোঝেন। জনগণের কথা ভাবে না। তিনি তার পরিবারের প্রতিশোধ নিচ্ছে জনগণের ওপর। কিন্তু আপনি তো অনেক মায়ের বুক খালি করেছেন।
আরও পড়ুন- অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য মজুত করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
তিনি বলেন, যেখানে শেখ হাসিনা থাকেন, সেখানে গণতন্ত্র থাকে না। এ দেশের গণতন্ত্র রুক্ষ। প্রধানমন্ত্রী কোন চেয়ারে বসে আছেন তা হয়তো তার মনে নেই। এই দায়িত্বে থেকে কীভাবে কথা বলতে হয়, তাও তিনি হয়তো জানে না। একজন কূটনৈতিকের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়। কূটনৈতিকরা সাধারণত সামনে কাউকে হ্যাঁ বলেন না, আবার না-ও বলেন না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, শেখ হাসিনার থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি কখন যাবেন, তা আমি জানি না। তবে তাকে যেতে হবে। কারণ তার স্ট্রেক হোল্ডাররা নড়বড়ে হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আগামীর বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখে ২০ ঘন্টা পাড়ি দিয়ে আমেরিকা যাবো না কথা মানায় না। কেনোনা এর প্রভাব আমাদের দেশের সাধারণ নাগরিকদের উপর পরবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর পরবে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শীল্পের উপরও এর প্রভাব পরবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক এবং আইনগত ভিত্তি- কোনটাই নাই। সময়ও বেশি নাই৷ নির্বাচনের মধ্যদিয়েই আমরা সরকারকে বিদায় করব৷ তবে এ সরকারের অধীনে নয়, ৯০ পরবর্তী নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, সেভাবে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে।
আরও পড়ুন- যে দেশে বাসিন্দা হলেই সরকার দিবে দেড় কোটি টাকা
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তাতে তার নামে মামলা হওয়া দরকার। তাকে দেশের মানুষ আর চায় না। অথচ তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন দিলে নাকি তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। আপনি প্রধানমন্ত্রী থাকেন আর না থাকেন, আমরা সেন্টমার্টিনের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে দিতে দিবো না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আগামীর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ আব্দুর রব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রফেসর মোহাম্মদ রুহুল আমীন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (WFME) সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ মোজাহেরুল হক, এবি পার্টির সহকারি সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মেজবাহ উল আলম সওদাগর প্রমুখ।



