লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছাগল চুরি করে পালানোর সময় তিন ছাগল চোরকে গনপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ছাগল ও ইজিবাইক জব্দ করেছে পুলিশ। এঘটনায় ওই খামারটি তিনজন গ্রামপুলিশ দ্বারা গত দুইদিন ধরে পাহাড়ায় রেখেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বিকালে পৌরসভার পুর্বলাচ গ্রামে। এঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ছাগলের মালিক মন্টু মিয়া জানান।
অপরদিকে, গত বুধবার চরমোহনা গ্রামে থানার সোর্স নামের দুই ব্যাক্তির খামারে ইউপির ছাগল বিক্রির অপরারাধে ৫ চোরকে গনপিটুনি দিলে দুই চোর পালিয়ে যায়। আহত তিনজনকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি এবং চোরদেরকেও থানায় সোপর্দ করা হয়নি।
আটক ৩ চোর হলেন-রায়পুর পু্র্বলাচ গ্রামের আজিজ বেপারির ছেলে সাগর (১৪), মমতাজ বেপারির ছেলে মোঃ নাজিম (১৪) ও বাবুল হোসেনের ছেলে বখাটে যুবক আলআমিন (২৮)।
ছাগল চুরির অভিযোগ এনে ওই তিনজনের নামে উপজেলার চরপাতা গ্রামের মন্টু মিয়া বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় মামলা করেছে। এ মামলায় তাদের আটক দেখিয়ে শুক্রবার সকালে (৭এপ্রিল) লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠানো হবে বলে এসআই সুলতান হোসেন জানান।
চরমোহনা গ্রামের কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ১৫ দিন আগে ইউপি সদস্য রবিউলের ছাগল চুরি করে একই ওয়ার্ডের কিশোর শাকিল। পরে সেই ছাগল থানার সোর্স তারেক ও আজাদের খামারে বিক্রি করে। পরে আজাদ সেই ছাগল নতুনবাজারের ব্যাবসায়ী আলমের কাছে বিক্রি করে। পরে সেই ছাগল ইউপি সদস্যের বাড়ীতে পৌঁছে দেয়া হয়।। এঘটনা জানার পর ইউপি চেয়ারম্যান শফিক পাঠানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন যুবক বিশেষ অভিযানে চোরাই ছাগল চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে পিটুনি দেয়। তাদের দুইজন পালিয়ে যায় এবং ৩ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এঘটনায় চরমোহনা গ্রামে আতংক দেখা দিয়েছে।
চরমোহনা ইউপি চেয়ারম্যান শফিক পাঠান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে চোরচক্রের দল মানুষের খামার থেকে ছাগল ও গরু চুরি করছে। এঘটনা ৫ সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নজরদারী রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে। ওই খামারটি গ্রামপুলিশ দিয়ে পাহাড়া দেয়া হচ্ছে।
রায়পুর থানার এসআই সুলতান বলেন, গত সাত দিন আগে চরপাতা গ্রামের মন্টু মিয়ার ছাগল চুরি করে পৌরসভার পুর্বলাচ গ্রামের মনু মিয়ার কাছে বিক্রি করে তিন কিশোর ও বখাটে। এঘটনা জানতে পেরে মন্টু মিয়া সাগরকে আটক করলে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সহযোগী দুইজনকে আটক করে গনপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এঘটনায় তিন কিশোর ও তরুনকে আসামিকে করে চুরির অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়।।
রায়পুর থানার ওসি শিপন বড়ুয়া, পৌরসভার পুর্বলাচ গ্রামে ছাগল চুরির ঘটনায় মামলায় আটক তিন কিশোর ও যুবককে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে।
বুধবার চরমোহনা গ্রামের অপর ছাগল চুরির ঘটনায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রামপুলিশ দিয়ে খামার পাহাড়া এবং চোরদের বিষয়ে পুলিশে পর্যবেক্ষন করছে।


