গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

৪ লাখ মানুষের জন্য ৮ চিকিৎসক: এক্স-রে মেশিন ও ওটি অচল, ভোগান্তি তুঙ্গে

Link Copied!

তীব্র চিকিৎসক ও জনবলসংকটসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। প্রায় চার লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালে বর্তমানে একজন শিশু বিশেষজ্ঞসহ মাত্র ৮ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এর মধ্যে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি ৭ দিন ধরে বিকল। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি দুই বছর ধরে এবং অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রয়েছে চার বছর ধরে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগেও হাসপাতালটিতে ১০ জন চিকিৎসক ছিলেন। সম্প্রতি ৫ জন বদলি হওয়ায় এবং ৮ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে (সদর হাসপাতালে ৪ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন) থাকায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ৩২ জন নার্সের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। ১০টি ইউনিয়নের ২৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও রয়েছে ডাক্তার ও জনবলসংকট। হাসপাতালের ভবনগুলোর অবস্থাও স্যাঁতসেঁতে ও ঝুঁকিপূর্ণ।
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে হাসপাতালের ভেতরেই চারজন চিকিৎসকের অংশগ্রহণে ৩০০ টাকা ফি নিয়ে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। গাইনি চিকিৎসকসহ এই সেবা চালু থাকলে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ জন গর্ভবতী নারী সেবা পেতেন।

২০০৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও গত এত বছরেও সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল দেওয়া হয়নি। গাইনি ও চর্মরোগসহ ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ ফাঁকা রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত দুই চিকিৎসকের মধ্যে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ এবং অপরজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, যিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এই হাসপাতালে কাজ করেন। বাকি চার দিন তিনি সদর ও রামগঞ্জ হাসপাতালে ডেপুটেশনে থাকেন। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারী তত্ত্বাবধায়ক যোগদানের পর থেকেই দুপুর ১টার আগেই হাসপাতাল ত্যাগ করে সরকারি গাড়িতে মাইজদী বাসায় চলে যান এবং পরদিন সকাল ১১টায় এসে অফিস করেন।

গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় রোগী খুশবু আক্তারের স্বজনদের সঙ্গে। তারা জানান, হাসপাতালে আসার পর থেকে চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি দেখা গেছে। তত্ত্বাবধায়কও দুপুর ১টা না বাজতেই মাইজদীর উদ্দেশে চলে গেছেন। গত ৭ দিন ধরে ডিজিটাল এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এক্স-রে করিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসতে হয়েছে। গাইনি, অর্থোপেডিকস, মেডিসিন ও সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না।

রোগীদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সময়মতো চিকিৎসকদের দেখা মেলে না। নার্সদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়ম ও খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাইমা নুসরাত জাবিন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘চিকিৎসক ও জনবলসংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে মানসম্মত সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। ডেপুটেশনে ৮ জন ডাক্তার রয়েছেন। বিষয়টি সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর আমার বাসা নোয়াখালীর মাইজদী শহরে হওয়ায় সরকারি গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।’

লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম বলেন, ‘আমি তিন মাস আগে রায়পুর হাসপাতাল থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছি। রায়পুর হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসকসহ জনবলসংকটের বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 427

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…