লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলাকালে এক মন্দিরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কামাল হোসেন (৪৫) নামের এক ডেকোরেটর কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গোপাল গিরিধারী মন্দিরে ডেকোরেশনের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কামাল হোসেন বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম কাদিরা গ্রামের কৃষক সুলজন খানের ছেলে। তিনি বিগত দুই বছর ধরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের একটি ডেকোরেটর দোকানে কাজ করছিলেন।
স্থানীয় ও মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় গোপাল গিরিধারী মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন কামাল। কাজ করার একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন নাহার এবং রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন চন্দ্র ভক্ত, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার রায় এবং শ্রীশ্রী গিরিধারী মন্দিরের সভাপতি সমীর কর্মকারসহ মন্দির কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, পুরো মন্দির এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকায় দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাত আটটার দিকে নিহত কামাল হোসেনের লাশ তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে রায়পুর থানা-পুলিশ।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রায়পুর উপজেলার ১৩টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। ইউএনও আজিজুন নাহার ও ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। মন্দিরের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


