উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসের বিনিময়ে সরাসরি ‘৫ শতাংশ’ অলিখিত কমিশন দাবি, নির্মাণকাজ শেষ না হতেই ৩৩ কোটি টাকার ভূয়া বিল পরিশোধ এবং সরকারি নিয়ম ভেঙে নিজ জেলায় প্রভাব বিস্তারের মতো গুরুতর অনিয়ম ঢাকার সব কসরত অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে। ‘শীর্ষ সংবাদ’-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত অনুসন্ধানী সংবাদের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সদর দপ্তর। সংবাদ প্রকাশের পর তিন মাসের মাথায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিতর্কিত উপজেলা প্রকৌশলী (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী) মো. ইকবাল হোসেনকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক নং- ৪৬.০২.০০০০.০০১.১৯.১০৩.২২-৯৫৩৫ নম্বর এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল ছেড়ে নতুন পদে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে মসজিদ, কালভার্ট কিংবা গভীর নলকূপের কাজ শেষ হলেও বিল ছাড় করতে ঠিকাদারদের গুণতে হতো ৫% কমিশন। ‘মেসার্স মনোয়ারা এন্ড ফাল্গুনি ট্রেডার্স’-এর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করে এলজিইডি।
গত (২৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন সরেজমিনে তদন্তে গেলে প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন নিজ এলাকার কয়েকজন পরিচিত ঠিকাদারকে এনে নিজের পক্ষে সাফাই দেওয়ানোর অপচেষ্টা চালান।
তদন্ত চলাকালেই ‘শীর্ষ সংবাদ’-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে পিটিআই (PTI)-এর নির্মিতব্য ভবনের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। একাডেমিক ও মহিলা হোস্টেল ভবনের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ বাকি থাকা সত্ত্বেও জুনের সমাপনীতে (জুন ক্লোজিং) শতভাগ বিল পরিশোধ করা হয়।শতভাগ বিল তোলার তথ্য ফাঁস হলে তড়িঘড়ি মরিচা ধরা পুরোনো রড এবং নামমাত্র সিমেন্ট দিয়ে প্লাস্টার করার তোড়জোড় শুরু হয়, যেখানে বাধা দেওয়া হয় সাংবাদিকদেরও।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নীতিমালায় নিজ জেলায় পদায়নের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইকবাল হোসেন নিজের জেলায় থেকে সদর উপজেলা সহ রায়পুর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
এলজিইডির এই তাৎক্ষণিক বদলির আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন লক্ষ্মীপুরের ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, কেবল বদলিই নয়, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে শতভাগ বিল পরিশোধ ও কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


