গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

লক্ষ্মীপুরে চার লেনের স্বপ্ন এখন মরণফাঁদ!

Link Copied!

ঢাকা–লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল মানুষের মধ্যে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই পুরোনো দুই লেনের সড়কটি হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের বড় কারণ।

মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। আবার বৃষ্টি থামার পর পানি শুকিয়ে গেলেই যানবাহনের চাকার সঙ্গে উড়ছে ধুলা। একেকটি গাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হচ্ছে ধুলার মেঘ। পথচারী থেকে যাত্রী, পরিবহনচালক থেকে সড়কের পাশের ব্যবসায়ী—সবাইকে প্রতিদিন এই ধুলা ও গর্তের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের কারণে পুরোনো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা নিয়মিত সংস্কার করা হচ্ছে না। ধুলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পানি ছিটানো হচ্ছে না। ফলে চার লেনের উন্নয়নকাজ এখন অনেকের কাছে স্বস্তির বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায়ও নোয়াখালী–লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন তিনি। স্থানীয়দের প্রশ্ন, মন্ত্রীর নির্দেশের পরও যদি সড়কের এই দশা থেকে যায়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার?

শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার জকসিনসংলগ্ন একটি পেট্রল পাম্প এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি সারবাহী পিকআপ ভ্যান বিকল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গাড়িটির চাকার এক্সেল ভেঙে যাওয়ায় সেটি আর চলতে পারছিল না। চালকদের অভিযোগ, সড়কের গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মোটরসাইকেলে চলাচলকারী মো. শিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার লেনের কাজ নিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু নির্মাণাধীন সড়কের পাশে চলাচলের জন্য থাকা পুরোনো দুই লেনের সড়কটি এখন যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে। বড় বড় গর্ত আর ধুলোবালির কারণে সড়কে চলাচল করা কঠিন।

তাঁর ভাষায়, ‘যতবার এই সড়কে চলাচল করবেন, ততবারই যেন গোসল করতে হবে।’

মহাসড়কের জকসিন, মান্দারী, জেলা কারাগারসংলগ্ন এলাকা ও লক্ষ্মীপুর শহরের বাগবাড়ী এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে তাঁরা নিয়মিত পানি ছিটাতে দেখেননি। ধুলায় দোকানের খাবার, মালামাল ও আসবাবপত্র ঢেকে যাচ্ছে। প্রতিদিন দোকান পরিষ্কার করতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।

সড়কের পাশের বাসিন্দাদের অবস্থাও একই। তাঁদের অভিযোগ, জানালা-দরজা বন্ধ রেখেও ধুলা থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। রায়পুর কাজী ফারুকী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীবাহী বাসের চালক বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ধুলাবালিতে শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস নষ্ট হচ্ছে। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চার লেনের কাজ দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় অন্তত পুরোনো সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখার দাবি তাঁর।

শুধু দুর্ভোগ নয়, ধুলার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরুপ পাল বলেন, ধুলাবালি ও দূষিত বায়ু নাক-মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হাঁপানি, সর্দি-জ্বর ও ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। প্রতিদিনই এ ধরনের সমস্যা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। ধুলাযুক্ত সড়কে চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াতের সময়ও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে বিভিন্ন রুটে ভাড়া বেড়েছে। কোথাও কোথাও আগের তুলনায় ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহনগুলোও এই দুর্ভোগের বাইরে নয়। গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়কটি পাঁচটি প্যাকেজে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। চার লেনের সড়কের প্রস্থ হবে ২০ মিটার। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৯ কোটি টাকা।

লক্ষ্মীপুর অংশের প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে দুটি প্যাকেজে ব্যয় হবে ৩২৯ কোটি টাকা। চন্দ্রগঞ্জ থেকে মান্দারী পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার কাজ পেয়েছে রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্স। আর মান্দারী থেকে লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার কাজ পেয়েছে তাহের ব্রাদার্স।

নোয়াখালী অংশের প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে তিনটি প্যাকেজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। দুটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে রিলায়েবল বিল্ডার্স। জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে একটি প্যাকেজের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

তবে ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি না ছিটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এমডি ইউছুফ। তিনি বলেন, নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য দুটি পানির ট্যাংকার রয়েছে। নিয়ম করে সড়কে পানি ছিটানো হচ্ছে। পুরোনো সড়ক মেরামতের কাজ তাঁদের ওয়ার্ক অর্ডারে নেই। তারপরও চলাচলের সুবিধার্থে যতটুকু সম্ভব সংস্কার করা হচ্ছে।

তবে সরেজমিনে প্রতিবেদকের পরিদর্শনের সময় মহাসড়কের ওই অংশে পানি ছিটানোর কোনো ট্যাংকার দেখা যায়নি।

সড়ক বিভাগ বলছে, নির্মাণকাজ চললেও যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক ব্যবস্থাপনা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারদের নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যা মজুমদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামত করে জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চার লেন নির্মাণকাজের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ছিটাতে হয়। অতিরিক্ত পানি ছিটালে নির্মাণকাজে ক্ষতি হতে পারে। তবে সড়কের গর্তগুলো ঠিকাদারদের দিয়েই সংস্কার করা হচ্ছে।

চার লেনের কাজ শেষ হলে লক্ষ্মীপুরের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। এর সুফল পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

তবে স্থানীয়দের কথা, উন্নয়নের এই কাজ শেষ হতে যখন আরও প্রায় তিন বছর সময় লাগবে, তখন নির্মাণকাজ চলাকালে তাঁদের নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা কে দেবে?

তাঁদের দাবি, চার লেন নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিয়মিত সংস্কার করতে হবে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট ধুলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি ছিটাতে হবে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 329

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…