গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগে অবসরের পরও সরকারি গাড়ি চালাচ্ছেন নুরুল আমিন?

Link Copied!

সরকারি চাকরির একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। সেই মেয়াদ শেষ হলে দায়িত্ব শেষ হয়, সরকারি সুযোগ-সুবিধাও শেষ হয়। পেনশন ও গ্র্যাচুইটি গ্রহণের মাধ্যমে একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগে যেন ভিন্ন এক বাস্তবতা বিরাজ করছে। সেখানে দেড় বছর আগে অবসরে যাওয়া একজন ড্রাইভার এখনও নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি গাড়ি নিয়মিত চালাচ্ছেন, আবার সরকারি বাসভবনও দখল করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন- এমন অভিযোগ জনমনে বিস্ময়, ক্ষোভ ও অসংখ্য প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কীভাবে এখনও সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন? কোন বিধি বা আইনের বলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি চালাচ্ছেন? যদি তিনি সরকারি কর্মচারী না হন, তাহলে তাঁর দায়িত্ব পালনের বৈধতা কোথায়? তাঁর পারিশ্রমিক কে দিচ্ছে? নাকি তিনি বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন? যদি তাই হয়, তবে এর বিনিময়ে তিনি কী সুবিধা পাচ্ছেন? রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কখনোই স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নুরুল আমিন দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী শ্রমিক লীগের সড়ক বিভাগ ইউনিটের সভাপতি ছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কেবল একজন চালক হয়েও দীর্ঘদিন সড়ক বিভাগের নানা কর্মকাণ্ডে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি ক্ষমতার শেষ সময়ে প্রভাব খাটিয়ে নিজের ছেলে ইউসুফ সুজনকে সড়ক বিভাগের রামগঞ্জ সাব-ডিভিশনের কম্পিউটার অপারেটার পদে অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁর ও পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের কথাও জনমুখে আলোচিত। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা কেবল ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটেরই প্রতিফলন।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যদি সেই একই ব্যক্তি আগের মতোই প্রভাব বজায় রাখেন, তাহলে প্রশ্ন ওঠে- তাঁর শক্তির উৎস কোথায়? ব্যক্তি বদলায়, সরকার বদলায়, কিন্তু একজন বিতর্কিত অবসরপ্রাপ্ত চালকের প্রভাব কেন বদলায় না? এর পেছনে কি কোনো অদৃশ্য স্বার্থের জাল কাজ করছে?

আরও একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, যিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা, তিনি কেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তির চালানো গাড়িতে চলাচল করবেন? সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত চালকের পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কি প্রশাসনিক দুর্বলতার পরিচয় নয়? নাকি এর পেছনে এমন কোনো গোপন সম্পর্ক বা স্বার্থ রয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসেনি?

এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। নীরবতা এখানে কোনো সমাধান নয়; বরং নীরবতা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সরকারি বাসভবন ব্যবহার করেন, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও সৃষ্টি করে।

আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই- বিষয়টি অবিলম্বে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। নুরুল আমিন কীভাবে এখনও সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন, কোন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সরকারি বাসভবনে বসবাস করছেন, তাঁর আর্থিক সুবিধার উৎস কী এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু- এসব বিষয়ে জনগণের সামনে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা তুলে ধরা হোক।

রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি দপ্তরও কারও ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য হতে পারে না। নিয়ম, জবাবদিহি ও আইনের শাসন যদি কেবল সাধারণ মানুষের জন্য প্রযোজ্য হয় আর প্রভাবশালীদের জন্য ব্যতিক্রম তৈরি করা হয়, তাহলে জনগণের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ক্রমেই ক্ষয় হবে। এখন সময় এসেছে, সব রহস্যের অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 318

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…