লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সামিয়া আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর একটি হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর লাশ রেখে অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁকে মারধরের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত সামিয়া আক্তার রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা একই এলাকার উত্তর গ্রাম মাইজের বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়া ও হাফিজের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। সামিয়া ছাড়াও হাফিজের আরও দুই স্ত্রী রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাফিজ মোল্লা এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, গত ১৬ জুন হাফিজ মোল্লা তাঁর বোন সামিয়াকে বেদম মারধর ও নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসান আরও অভিযোগ করেন, সামিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে হাফিজ মোল্লা লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশকে জানায়। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহতের স্বজনরা জানান, সামিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। শুক্রবার এশার নামাজের পর সামিয়ার লাশ তাঁর বাবার বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ সময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই হাফিজ আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। আমি গত ২৫ জুন রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে আগে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা থেকে একজনের মৃত্যুর বিষয়ে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


