গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

মজু চৌধুরীর হাটে প্রকাশ্য ‘লুটতরাজ’: ৫ টাকার টোল ১০ টাকা

Link Copied!

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই, নেই প্রশাসনের নজরদারি। লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে চলছে প্রকাশ্য ‘টোল বাণিজ্য’। সরকারিভাবে ঘাটে প্রবেশের ফি ৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ অর্থাৎ ১০ টাকা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অনিয়ম চললেও যেন দেখার কেউ নেই। উল্টো ইজারাদারের দম্ভোক্তি— “কাগজে ৫ টাকা থাকলেও ১০ টাকা নিচ্ছি, পারলে নিউজ করেন।”

যাত্রীদের নাভিশ্বাস, মৌন প্রশাসন
সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোলাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। ঈদ বা বিশেষ ছুটির সময় যাত্রী সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছালে এই অতিরিক্ত ৫ টাকার অংকটি কোটি টাকায় দাঁড়ায়। যাত্রীদের অভিযোগ, এটি কোনো টোল নয়, বরং পরিকল্পিত ‘চাঁদাবাজি’।

ভোলা গামী যাত্রী মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ১০ টাকার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি ২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে, তবে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে আমরা এমন অরাজকতা আশা করিনি।”

রিমন ও মিঠুন নামের অন্য দুই যাত্রী জানান, কোনো প্রতিবাদ করেই লাভ হচ্ছে না। ঘাটে ঢুকতে হলে ১০ টাকাই দিতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখানে অসহায়।

কর্মকর্তার অসহায় স্বীকারোক্তি
বিআইডব্লিউটিএ লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীর হাট টার্মিনালের বন্দর কর্মকর্তা শাহ আলম অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ৫ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও তারা ১০ টাকা নিচ্ছে। বিষয়টি আমি অবগত আছি।” তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চললেও কেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি তার কাছ থেকে।

ইজারাদারের চ্যালেঞ্জ
অনিয়মের বিষয়ে ঘাটের ইজারাদার আমির আহমেদ রাজুর বক্তব্য রীতিমতো বিস্ময়কর। তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে সংবাদমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “ঘাট পরিচালনায় খরচ বেশি, তাই ১০ টাকা নিচ্ছি। মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি, মৌখিক অনুমোদনও আছে। কাগজে ৫ টাকা থাকলেও বাস্তবে ১০ টাকা নিচ্ছি, আপনি চাইলে নিউজ করতে পারেন।”

জনমনে প্রশ্ন
প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম এবং ইজারাদারের এমন দাপুটে অবস্থানের পেছনে প্রভাবশালী কোনো মহলের যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। যেখানে নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে প্রশাসনের চোখের সামনে এমন লুটতরাজ কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত এই চাঁদাবাজি বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

Editor

Editor

সম্পাদক

সর্বমোট নিউজ: 427

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…