পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, “উপকূলীয় মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে। বর্ষার বন্যার স্রোত প্রতিবার তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে।”
শনিবার দুপুরে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীর রক্ষা পরিদর্শনে যাওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে কিছু অংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু বাকি অংশ দ্রুত শেষ করতে হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আন্তরিকতা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “গত সরকারের সময় দেশীয় অর্থের অপচয় ও পাচারের ফলে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেই দুনীতির প্রভাব এখনো লক্ষ্য করা যায়। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ্যানি চৌধুরী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, লক্ষ্মীপুর সদরের মজু চৌধুরী হাট থেকে কমলনগর, রামগতির বয়েরাচর পর্যন্ত প্রায় ৬২ কিলোমিটার নদী রয়েছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে তীর রক্ষা বাঁধ না থাকার কারণে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেক পরিবার হারিয়েছে বসতবাড়ি।
মন্ত্রী বলেন, “আল্লাহর রহমতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি দেশপ্রেমিক সরকার পেয়েছি। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ও এলাকাভিত্তিক সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি।”
পরিদর্শন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজাম, রামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান এবং সদর উপজেলা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ সহ অন্যান্য প্রমুখ।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ শুধুই নদী ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করছে না; তারা দীর্ঘদিনের অবহেলার বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছে। সরকারের পদক্ষেপ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা এই অঞ্চলের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।


