‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ কথা উল্লেখ করে ঢাকার শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র নিহত শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি। তবে কোন দিক থেকে নিরাপত্তা শঙ্কা সেটি কিংবা কারো নাম বলা হয়নি।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে শাহবাগ থানায় তিনি এ জিডি করেন। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এতে তিনি নিজের এবং হাদির সন্তানের ‘নিরাপত্তা শঙ্কার’ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, তিনি নিরাপত্তাহীন মনে করে একটি জিডি করেছেন, কিন্তু সেখানে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, জিডিতে কারো নাম উল্লেখ্য না করলেও তিনি (ওমর বিন হাদি) নিজের এবং হাদির সন্তানের ‘নিরাপত্তা শঙ্কার’ কথা বলেছেন
শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, জিডিতে ওমর বিন হাদি নিজে ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির সন্তানকে খুন করা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। হাদির খুনি চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যেকোনো সময় ‘অপ্রীতিকর ঘটনা’ ঘটাতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে তাঁর পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১৫ জানুয়ারি ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে শুরুতে তাঁর সার্জারি হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান তিনি। শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন।



