আততায়ীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেই শরিফ ওসমান হাদির লাশ দেখতে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই হাদিকে এক নজর দেখতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে যান তিনি।
জামায়াত আমিরের ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় শরিক হতে লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছি। আলহামদুলিল্লাহ। বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি গিয়েছি শহীদ ওসমান হাদিকে এক নজর দেখার জন্য। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে; কিন্তু এমন শোকের মুহূর্তে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা আমার জানা নেই। মহান আল্লাহ এই পরিবারকে এবং দেশবাসী সবাইকে সবরে জামিল দান করুন।
প্রসঙ্গত- গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির উপর আক্রমণ হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানেই বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
ওসমান হাদির কফিন সিঙ্গাপুর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছার পর রাখা হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হয়েছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে হাদির জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি কোনো দল বা মতের নন— তিনি এই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, আজ তাঁর জানাজায় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দলে-দলে অংশগ্রহণ করুন। দেশের এই বীর সন্তানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো আমাদের সবার দায়িত্ব। তার স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়ভারও আমাদের সবার। শহীদ ওসমান হাদি হোক আমাদের ঐক্যের প্রতীক। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর শাহাদাত কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।


