ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাশাসকের নির্যাতন, যুলুম, হামলা, মামলার ইতি ঘটেছে নাগরিক সমাজে। পুরো দেশের নাগরিকরা নতুন স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। তবে এই নব্য স্বাধীনতার শুভেচ্ছা লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ১৫ নং ওয়ার্ড বেড়ীরমাথা সংলগ্ন ওঁদু ভূঁইয়া সড়কবাসীর জন্য ভিন্ন ধরনের আনন্দ বার্তা বয়ে আনে। অত্র এলাকার নবীন, কিশোর, বৃদ্ধ প্রতিটা মানুষ আ.লীগের শাসনামলে নির্যাতিত হতে হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ১৫ নং ওয়ার্ড, বেড়ীরমাথা, ওঁদু ভূঁইয়া সড়ক; আ.লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে (ওঁদু ভূঁইয়া সড়ক) পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হলেও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে সড়কটি নির্মাণ করা হয়নি।
একসময় সড়কটি নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য ইট বালু ফেলা হয়, তার কিছুদিন পর ইট বালু তুলে নেওয়া হয়। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে অত্র এলাকায় জামাত-শিবির, বিএনপির সমর্থন বেশি থাকায় হচ্ছে না সড়কটি। তবে সেসময়কার সাবেক স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন শাহী স্পষ্ট করে কিছু না বলে অসম্পষ্ট ভাষায় নাগরিকদের বলেন: আমার হাতে কিছু নেই; আমি সামান্য মাত্র কাউন্সিলর, রাস্তা সংস্করণের জন্য আমি অনুরোধ করতে পারি মাত্র। জোর করে কিছু করতে পারি না।
এই বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন: লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ১৫ নং ওয়ার্ডের ওঁদু ভূঁইয়া সড়কটি সংস্করণ করার জন্য এক সময় ইট বালু ফেলা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক বিভিন্ন জটিলতা দেখিয়ে তৎকালীন কাউন্সিলর ইট বালু তুলে নিয়ে নিজের বাড়ির রাস্তা সংস্করণ করেন। অনেকেই দাবী করেন, সড়কটি সংস্করণ করলে এলাকার প্রভাবশালী মোড়লদের দখলকৃত সরকারি জমি ছেড়ে দিতে হবে তাই তারা সড়ক নির্মাণের কাজে বাধা সৃষ্টি করায় হচ্ছে না রাস্তা।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় শত শত শিক্ষার্থী তাদের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। বরষা কাল এলেই শিক্ষার্থীসহ অনেকে রাস্তা পারাপারের সময় পিছলা খেয়ে পড়ে যেতে হয়। আবার অনেকের কাদামাটি গায়ে লেগে যায়। তাতে করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবী ; ছাত্রদের বীরত্বে আমরা নতুন ভাবে স্বাধীনতা পেয়েছি, নতুন দেশ পেয়েছি; আমাদের ছাত্র ভাই-বোনেরা আর যেন অসুবিধার সম্মুখীন না হয় দ্রুতই রাস্তারটির সংস্করণ প্রয়োজন।


