মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় ধর্মঘট ডাকলেও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তা থেকে সরে এসেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এতে রাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধের যে আশঙ্কা ছিল, সেটি কেটে গেছে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে তাদের ধর্মঘট শুরুর কথা ছিল। তবে সন্ধ্যায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।
পরিষদের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান জানান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দাবি পুরণের ব্যাপারে আশ্বাস পেয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদের দাবি মানার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে সেখানে বৈঠক হবে। উচ্চ পর্যায়ের এই আশ্বাসে আমরা আগামী ১০ কার্যদিবস আমাদের কর্মবিরতি স্থগিত করেছি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
অবসরের পর পেনশনের সঙ্গে ‘মাইলেজ’ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন রানিং স্টাফরা। কয়েক দফায় অতিরিক্ত কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ধর্মঘট পালন করেন তারা। তবে বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলসচিব, রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন তারা।
আরও পড়ুন- কুড়িগ্রামে বন্যার আশঙ্কাঃ তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপরে
এবার তারা দাবি আদায়ে অনির্দষ্ট কালের কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
রেলওয়ের রানিং স্টাফরা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী হেডকোয়ার্টারে তাদের ৮ ঘণ্টার ডিউটি শেষে ১২ ঘণ্টা বিশ্রাম করার কথা। কিন্তু রেলওয়ের কর্মী সংকট থাকায় তারা ৭/৮ ঘণ্টা বিশ্রাম করার পর আবার কাজে নেমে যান। রেলের কর্মীরা রেলের স্বার্থে কাজ করতে চান। কিন্তু রেলওয়ে তাদের স্বার্থের বিষয়ে আন্তরিক নয়।
ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, টিটিই ও ট্রেন পরিচালকদের রানিং স্টাফ বলা হয়। অর্থাৎ যারা চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করেন, তারাই রানিং স্টাফ।
মুজিবুর জানান, ব্রিটিশ রেল আইন অনুযায়ী চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের মূল বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত কাজের জন্য বাড়তি টাকা দেওয়া হয়। এটি ‘মাইলেজ’ হিসেবে পরিচিত। এতে মূল বেতনের পাশাপাশি তা তাদের পেনশনের সঙ্গেও যুক্ত হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে রানিং স্টাফদের মাইলেজ সুবিধা সীমিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। পেনশনে পাওয়া অতিরিক্ত ৭৫ শতাংশ টাকাও বাতিল করা হয়। এ নিয়ে আন্দোলনে নামেন রানিং স্টাফরা। রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফা বৈঠক করেন কর্মীরা। তবে সুরাহা না হওয়ায় রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেন তারা।



