দেশের অগ্রযাত্রা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা সমালোচিত হয়, এমন কোনো সংবাদ প্রচার না করার জন্য সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, `দেশের কল্যাণের জন্য গঠনমূলক সমালোচনা করুন, ক্ষতির জন্য নয়।` সরকারের সমালোচনা থাকবে, তবে তা গঠনমূলক হতে হবে। গণমাধ্যমের যতটা স্বাধীনতা আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে তা কখনও কেউ দেয়নি বলেও এসময় জানান তিনি।
সোমবার (১০ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের করবী হলে অসুস্থ, অসচ্ছল সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা বা অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

এ বছর বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট (বিজেডব্লিউটি) তহবিল থেকে ৪৩৮ সাংবাদিককে প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হলেন বাংলানিউজের সাংবাদিক নাদিম
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। অতীতে এত স্বাধীনতা কেউ কখনো উপভোগ করেনি।
তিনি বলেছেন, আপনারা এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং এর চলমান অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সব সময় গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। কারণ, এতে আমরা নিজেদের সংশোধন করে নিতে পারি। গঠনমূলক সংবাদ সরকার চালাতে সাহায্য করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে এবং স্বাধীনতা ভোগ করবে, তবে তা যথাযথ দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে করা উচিত। আমি চাই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা (দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার কারণে) আর বাধাগ্রস্ত হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা উপভোগ করার অধিকার সবার আছে। তবে তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। আপনারা অবশ্যই স্বাধীনতা উপভোগ করবেন। তবে আপনাদের দায়িত্বশীলতা এবং কর্তব্যপরায়ণতা দেখাতে হবে।
আরও পড়ুন- শয়তানের মেগাফোন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠন করার সময় সংবাদপত্র ছিল হাতেগোনা কয়েকটি। তখন অবাধে সংবাদ যাতে প্রকাশিত হতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি। প্রথমে তিনটি প্রাইভেট চ্যানেলের অনুমতি দিয়েছি, তারপর এটি বাড়ানো হয়েছে। সেই সময় অনেকে বাধা দিয়েছিল যে, প্রাইভেটে টিভি চ্যানেল দেওয়া ঠিক হবে কি না? আমি যখনই যে কাজ করেছি সেখানে লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তখন আমি বলেছিলাম, যত বেশি টেলিভিশন দিতে পারব সেখানে সাংবাদিক থেকে শুরু করে বহু ধরনের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সাংবাদিক, শিল্পী, টেকনিশিয়ানসহ বহু ধরনের মানুষ কাজ পাবে তাদের জীবন চলতে পারবে। সেভাবে আমরা টেলিভিশনটা উন্মুক্ত করে দেই।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে দেশে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরা যাতে কিস্তিতে ফ্ল্যাট কিনতে পারে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও একসময় সাংবাদিকতা করেছেন। তার আত্মজীবনী পড়লে আপনারা সেটি জানতে পারবেন। শুধু সাংবাদিকতা নয়, পত্রিকা বিক্রির কাজও তিনি করেছেন। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে আমি আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য।
আরও পড়ুন- সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের উপর হামলা, নদীতে ফেলে হত্যার হুমকি
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২৫ কোটি টাকা দিয়ে গঠিত হয়েছিল বিজেডব্লিউটি তহবিলটি। তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫১০ সাংবাদিকের মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব মোঃ হুমায়ন কবির খন্দকার।
বিএফইউজে এবং ডিইউজে নেতাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



