লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে ৮টি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীত পড়তে শুরু হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ বিপাকে রয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকার মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
রায়পুর উপজেলার জন্য ৫ হাজার ৩৭০টি কম্বল আসছে। আরো ৪ হাজার ২’শটির জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে বলে পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানায়।
রায়পুরের উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, চরমোহনা, উত্তর আবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়নের এই চরগুলোতে (চরকাছিয়া, চরবংশী, চর জালিয়া, চরপক্ষি, চরইন্দ্রুরিয়া, চর কুচিয়া, চর মিয়ারহাট, চরমোহনা) প্রায় অর্ধলাখ মানুষের বসবাস। শ্রমিক, মজুর ও দৈনন্দিন খেটে খাওয়া মানুষের কাজকর্মেও ছন্দপতন ঘটে চলেছে।
মেঘনার ভাঙনের শিকার হাজারো পরিবার অস্থায়ীভাবে ঘর তৈরি করে কোনো রকম বসবাস করছেন চরাঞ্চলে। তবে সরকারিভাবে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র ও গুচ্ছগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোতে গাছপালা কম হওয়ার কারণে রোদ, বৃষ্টি ও শীত সব মৌসুমেই কষ্টে দিনাতিপাত করে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরাঞ্চলের মানুষ বেশির ভাগ কৃষি ও মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ার কারণে চিকিৎসাসহ সরকারি অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত।
মেঘনা নদীর পাশের চরবংশী ইউপির চরকাছিয়া এলাকার বাসিন্দা খোকন মাঝি বলেন, চরাঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ নিম্ন আয়ের (জেলে-দিনমজুর-রিকশা চালক) । মানুষগুলো শীতে অবস্থা খারাফ। এখানকার মানুষকে শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জালিয়ে ঘরের সামনে বসে থাকতে দেখা গেছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা বেপারি জানান, হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অধিক কষ্টের মধ্যে এসব চরাঞ্চলের মানুষ। কারণ চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশটা সুন্দর না থাকায়, অর্থাৎ গাছপালা কম হওয়ার কারণে কুয়াশা আর বাতাস দুটোই তাদে ছোট ঘরগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনজন দাশ বলেন, ‘সরকারিভাবে পাওয়া প্রায় ৫-হাজার ৩৭০টি কম্বল ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে বিতরণ হয়। চরাঞ্চলের শীতার্তদের আলাদাভাবে কিছু করতে পারলে ভালো লাগবে। চেষ্টা করব তাদের শীত নিবারণের জন্য কিছু করতে। ইউনিয়ন পরিষদ তালিকা করে কম্বল বিতরণ করবে। কেউ না পেলে যোগাযোগ করলে কম্বলের ব্যবস্থা করা হবে।’


