গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীদের কোন কাজে’ই আসছেনা কোটি টাকার ল্যাব

Link Copied!

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কোটি টাকা ব্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থাপিত শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাবগুলো কোন কাজেই আসছেনা। প্রয়োজনীয় তদারকির অভাব ও দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় ল্যাবগুলোর এই করুণ দশা। এবিষয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে (২২ ডিসেম্বর) হায়দরগঞ্জ টিআরএম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষকে শোকজ করেছন ইউএনও অন্জন দাস। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হবে।

অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই। যেগুলোতে কম্পিউটার ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আছে তাঁদেরও অনেকেই কম্পিউটার বিষয়ে পারদর্শী নন। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কিংবা কম্পিউটারের কাজও বাইরে কম্পিউটার দোকান থেকে করেন।

অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ল্যাপটপ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এতে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত ল্যাবগুলো থেকে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরী হতে পারছেনা। এমনটাই অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

রায়পুর উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০১৫, ২০২০ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, আইসিটি অধিদপ্তর থেকে উপজেলায় ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কর্মসূচীর (সেসিপ) আওতায় ১৭টি আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব করা হয়েছে। প্রতিটি ল্যাবে লেনভো ব্রান্ডের ১৭ থেকে ২২ টি ল্যাপটপ ও তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত উপকরণ দেওয়া হয়। এসব ল্যাবে ব্যায় হয় প্রায় কোটি টাকা মত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো, রায়পুর সরকারি কলেজ, রুস্তম আলী ডিগ্রী কলেজ, মহিলা কলেজ, হায়দরগঞ্জ মডেল কলেজ, এলএম পাইলট মডেল, পাইলট বালিকা, দক্ষিন রায়পুর আব্দুর রহমান, বামনী আদর্শ, মীরগন্জ, লুধুয়া এমএম, জনকল্যান বহুমূখী, হায়দরগন্জ রোকেয়া হাসমতের নেছা, চর আবাবিল রচিম উদ্দিন, চরবংশী জয়নালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও চরপাতা মজিবুল হক একাডেমি এবং রায়পুর কামিল ও হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আরএম কামিল মাদরাসা।

সরেজমিন এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের কুচিং ক্লাশে উপস্থিত দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারের প্রাকটিক্যাল ক্লাস কবে হয়েছিলো? এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানায়, গত এক বছরেও ল্যাবে তাদের ব্যবহারিক ক্লাস হয়নি। অন্যান্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থাও একই রকম দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা জানেনা ল্যাবের কার্যক্রম সম্পর্কে। ব্যাবহার তো দূরের কথা।

জনকল্যান বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার রায় জানান, ১৭ টি ল্যাপটপের মধ্য ৮-৯ টি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ল্যাব এসিট্যান্ট নিয়োগ না হওয়ায় অন্য শিক্ষকরা সেটি শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়ে থাকে। একই অবস্থা রচিম উদ্দিন ও মীরগঞ্জ উচ্চ বিদযালয়।

রায়পুর হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর এম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মজুমদার বলেন, করোনার পরে সমস্যার কারণে ল্যাব চালাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়, ইন্টারনেট সংযোগ সঠিকভাবে না পাওয়ায় বিদ্যুৎ থাকলেও কাজ করা যায়না। এ ছাড়া কম্পিউটার ল্যাবে পর্যাপ্ত ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ না থাকায়ও সমস্যা হয়। তাঁদের প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল কম্পিটার ল্যাবে দেওয়া ১৭ টি ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার কয়েকমাসেই তা অকেজো হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মেরামত করা হয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী আছে ১ হাজার ৭৮৯ জন। একসঙ্গে এসব শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া কষ্ট কর। পৃথকভাবেও সম্ভব হয় না। নানা জটিলতায় ল্যাব এসিস্ট্যান্টও নিয়োগ দেয়া হয়নি। এতে ল্যাবের কার্যক্রম তত্বাবধান করাও দূরহ। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কিছু বলেনা।

আপনার সাংবাদিকের কারনে এখন শোকজ করে ইউএনও স্যার তার অফিসে যেতে বলেছেন।।

অভিজ্ঞ মহলের মন্তব্য হলো, সদিচ্ছা থাকলে সীমিত সামর্থ্য দিয়েও ভালো কাজ করা যায়। কম্পিউটার ল্যাবগুলো সচল রেখে আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাধারণ শিক্ষার সাথে ডিজিটাল জ্ঞানে দক্ষ করে তোলা সম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সরকারের যুগোপযোগী এ কার্যক্রমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মফস্বলের প্রতিষ্ঠানগুলোর দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা। তারা এক্ষেত্রে অচলাবস্থা দূর করতে শিক্ষা অফিসসহ জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দের সদিচ্ছা ও কার্যকর তৎপরতা প্রত্যাশা করেছেন। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ও সময়োপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির উন্নতি সাধনে আত্মনিয়োগ করতে পারে। তাহলেই সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব। পরিদর্শনেসময় একাডেমিক সুপারভাইজার মন খারাফ করে চলে যেতে দেখি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল হক বলেন, ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব চালু রাখতে নির্দেশনা রয়েছে। ক্লাস্টার করে করে দায়িত্বশীলরা এখন ল্যাব গুলোতে যাচ্ছেন। সমস্যা সমাধানের সার্বিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। অনতিবিলম্বে এক্ষেত্রে সব সমস্যা দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী বছর আরো প্রতিষ্ঠানে ল্যাব স্থাপন হবে।

রায়পুর ইউএনও অঞ্জন দাশ বলেন, এবিষয়ে হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া কামিল মাদরাসাকে শোকজ করা হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক

সর্বমোট নিউজ: 1081

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
সর্বশেষ
  • আমাদেরকে ফলো করুন…