কুড়িগ্রামের উলিপুরে কীটনাশক মুক্ত কপির চাষ বাম্পার ফলনের আশা। কপি চাষিরা আগাম জাতের ফুল কপি বাধা কপি চাষে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আগাম জাতের কপিতে স্বপ্ন দুলছে কপি চাষিদের।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগাম জাতের কপি চাষে পানি দিতে এবং নিড়ানিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কপি চাষিরা। আগাম জাতের হাইব্রিড কপির মধ্যে মার্বেল, স্নোবল, হোয়াইট স্নোবল, নিঞ্জা সহ আরও অনেক জাতের কপির চারা লাগিয়েছেন। এ সকল জাতের কপি মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। এ আগাম জাতের কপি বাজারে অনেক চাহিদা থাকে। এতে করে আশানুরূপ দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তারা সারাদিন মাঠে কপির যত্ন নিচ্ছেন অতি লাভের আশায়। তারা জৈবিক সারের মাধ্যমে কপির চাষ করে ভালোভাবে তার ফলন উঠাবে এ আশা করছেন কপি চাষিরা। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় উপজেলায় পৌরসভা সহ ফুলকপি এবং বাঁধাকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৬০ হেক্টর।
আরও পড়ুন- ওয়ালটনে সেলস এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি
উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর গ্রামের কপি চাষি বদিউজ্জামাল বলেন, আমি আগাম জাতের হাইব্রিড কপির চারা লাগিয়েছি প্রায় ৩৫ শতক জমিতে। আমি জমিতে বেশি করে জৈবিক সার প্রয়োগ করেছি। এখন পর্যন্ত বাম্পার ফলন দেখা যাচ্ছে। এ জমিতে কপি চাষে মোট খরচ হবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত যে ভাবে আশানুরূপ ফলন হয়েছে তাতে আশাকরি প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। এখানে আমার লাভ হবে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।
উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের উমানন্দ ক্বারিপাড়া গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, আগাম জাতের কপি চাষ করেছি ১৫ শতক জমিতে এখন পর্যন্ত ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। যদি কোন রোগবালাই পোকামাকড় আক্রান্ত না করে তাহলে ভালো টাকা আয় করতে পারব।
আরও পড়ুন- ব্র্যাকের পল্লীসমাজের উদ্যোগে উঠান বৈঠক
এছাড়া উপজেলার তবকপুর, সাতদরগাহ, বজরা, করলাপাড়া, টাপুরখুটি, বাড়াই পাড়া, বকশিপাড়া সহ আরও অনেক এলাকার কপি চাষিদের মধ্যে নুর আলম, জয়নাল, জমিরউদ্দীন, সওকত আলী, বকিয়ত আলী, বকুল, গোলজার, সৈয়দ সহ আরও অনেক বলেন, এবারে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় আগাম জাতের কপি চাষ করা সম্ভব হয়েছে। এ পর্যন্ত কপির বাম্পার ফলন দেখা যাচ্ছে। আশাকরি অনেক লাভবান হতে পারব বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, এবারে আগাম জাতের কপির বাম্পার ফলন দেখা যাচ্ছে। কপি চাষিদের বিভিন্ন ধরনের কপির রোগবালাই পোকামাকড় সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে। এ সকল ক্ষতিকর পোকামাকড় রোগবালাই এর হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।



