উদ্বোধনের পর পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট বল্টু খোলার টিকটক ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই বাইজিদ তালহাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।
রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তালহার জামিন স্থগিত করেছেন। এরপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর।
এর আগে গত ২৬ জুন রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে আটক করে। বায়েজিদের বাড়ি পটুয়াখালীতে। তিনি রাজধানীতে বেসরকারি চাকরি করেন।
এর আগে বায়জিদ সেতুর নাটবল্টু খুলছেন এমন একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এরই ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।
সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম (মাসুদ) জানান, ‘ভিডিওতে যে যুবককে পদ্মা সেতুর নাটবল্টু খুলতে দেখা গেছে, তাকে আমরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তিনি কেন এই কাজ করেছেন, সেটা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন- দেশে ক্ষুধা-দারিদ্র্য বলে কিছু নেই
প্রসঙ্গত, কাইসার ৭১ (Kaisar71) নামক একটি টিকটক অ্যাকাউন্টের লোগো লাগানো ৩৬ সেকেন্ডের সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলার ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর একটি টিকটক ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবক হাত দিয়েই পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে ফেলেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই হলো আমাদের পদ্মা সেতু। আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’ এ সময় পাশ থেকে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাইরাল কইরা ফালায়েন না।’
পরে ভিডিও ভাইরাল হলে ২৬ জুন বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে টিকটক করা সেই যুবক বায়জিদ তালহাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই যুবকের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে।
পরদিন ২৭ জুন বিকেলে শরীয়তপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুজ্জামান তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ায় পর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তালহা। আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।



