লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি থেকে আবারও রাতের আঁধারে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে কথিত বালু দস্যু স্বপন কবিরাজের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযানে আট লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার পরও তিনি থামেননি; বরং নতুন করে সহযোগী নিয়ে ট্রাকভর্তি মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী এলাকায় গত দুই রাত ধরে গভীর রাতে ১০ থেকে ১২টি ট্রাক দিয়ে নদীর পাড়ের ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও কয়েকটি ট্রাকে করে মাটি পরিবহন করতে দেখা গেছে। এতে করে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বপন কবিরাজকে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটার অপরাধে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদীতীরবর্তী একাধিক গ্রামবাসী বলেন, রমজান মাসের সুযোগে রাতের অন্ধকারে মাটি কাটার কাজ চলছে। প্রভাবশালী কয়েকজনের ছত্রচ্ছায়ায় স্বপন কবিরাজ ও তার সহযোগীরা ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একই ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী আলতাফ মাস্টার ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর বাল্কহেড, বেকু মেশিন ও ১১টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মহসিন বকাউল (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে অভিযুক্ত স্বপন কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে শুক্রবার তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, জানুয়ারিতে স্বপন কবিরাজকে মাটি কাটার অপরাধে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তিনি আবার মাটি কাটছেন—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জনস্বার্থে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


