বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নতুন যে রাজনৈতিক দল এসেছে, তাদের সঙ্গে বারবার আলোচনায় বসা উচিত ছিল। পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সরকার সেই পরিবেশ তৈরি করেনি। গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকে লোভে পড়ে গেছে। কিন্তু টেন্ডারবাজি ও বদলি বাণিজ্যের জন্য কাউকে জিম্মি করে পার পাবেন ভাবলে সেটা হবে দুরাশা। এভাবে কিছু অর্জন করলে তাদের পরিণতি হবে ডাস্টবিন, এটা সকলকে মনে রাখতে হবে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিপ্লবী যুব সংহতি আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের স্বপ্ন-প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির খতিয়ান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন তিনি।
সভায় বিএনপি নেতা এ্যানি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল বলা যায় কি না সন্দেহ আছে। তারা সেই অধ্যায় তৈরিই করেনি, পরিবেশ রাখেনি। তারা দুর্নীতি, দুঃশাসন চালিয়ে; দেশের মানুষকে জিম্মি করে নিঃশেষ করে দিয়েছে। গণতন্ত্র কিংবা দেশ না, দুর্নীতি আর ক্ষমতাই ছিল তাদের অগ্রাধিকার। মানুষের ভালো কিছু গ্রহণের প্রবণতা কমে যাচ্ছে।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গত ১৭ বছরের অত্যাচার গুম-খুন থেকে ইচ্ছে করলেই আমরা বের হতে পারছি না। যারা অকারণে রাজনীতি করে, তারা এটাকেই রাজনীতি বলে মনে করছে। তবে এটা আমাদের রাজনীতি নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর গুণগতমান পরিবর্তন করা জরুরি মনে করে জনগণ।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, নতুন যে রাজনৈতিক দল এসেছে, সেই দলের সঙ্গে বারবার আলোচনায় বসা উচিত। পরামর্শ দেওয়া উচিত তাদেরকে। এই সরকার কতটুকু সংস্কার করতে পারবে এসব নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা করছে না।
এসময় বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে সংস্কার সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক বাবর চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, এবি যুব পার্টির আহবায়ক শাহাদাৎ উল্লাহ টুটুল, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মঞ্জুর মোরশেদ মামুন, জাতীয় যুব সংহতির আহবায়ক হারুন অর রশীদ, নাগরিক যুব ঐক্যের আহবায়ক মাহফুজ খান, বিপ্লবী যুব সংহতির সদস্যসচিব মীর রেজাউল আলম ও কেন্দ্রীয় সদস্য জামিরুল রহমান ডালিম, আউয়াল মাহমুদ প্রমুখ।



