গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত, নিবন্ধন নং ১১৪
  1. অনিয়ম
  2. অন্যান্য
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন-বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. কৃষি ও প্রকৃতি
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রবাসের খবর
  15. ফিচার
  16. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  17. বিনোদন
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. রাজনীতি
  20. শিক্ষাঙ্গন
  21. শেখ হাসিনার পতন
  22. সম্পাদকীয়
  23. সারাদেশ
  24. স্বাস্থ্য
  25. হট আপ নিউজ
  26. হট এক্সলুসিভ
  27. হাই লাইটস

প্লাস্টিকের ছোবলে জর্জরিত পৃথিবীঃ বাড়ছে রোগ, ক্ষতির অঙ্ক ট্রিলিয়ন ডলারে

Link Copied!

প্লাস্টিক আজ আর শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের উপকরণ নয়, এটি পরিণত হয়েছে মানবজাতি ও প্রকৃতির এক ভয়াবহ সংকটে। গর্ভের ভ্রূণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত—পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ আজ কোনো না কোনোভাবে প্লাস্টিক দূষণের শিকার। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটে প্রতিবছর দেড় ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে কেবল চিকিৎসা খাতে।

প্রখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্লাস্টিক দূষণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ছে। ১৯৫০ সালের তুলনায় বর্তমানে এই দূষণ বেড়েছে প্রায় ২০০ গুণ এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০৬০ সালের মধ্যে এটি আরও দ্বিগুণ হবে। গার্ডিয়ান পত্রিকা জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের (যেমন পানির বোতল, ফাস্টফুডের প্যাকেট) উৎপাদন এবং ব্যবহারের কারণেই এই সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত প্লাস্টিকের পরিমাণ প্রায় ৮ বিলিয়ন টন, যার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই দূষণ শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং হিমালয়ের চূড়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের গভীর তলদেশ পর্যন্ত প্লাস্টিকের অস্তিত্ব মিলছে।

ল্যানসেট আরও জানায়, প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার থেকে শুরু করে তার নিষ্কাশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পৃথিবী দূষণের শিকার হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির মাধ্যমে তৈরি হওয়া এসব প্লাস্টিক বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরা দেহে প্রবেশ করে নানা ধরনের জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়—বিশেষত শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, জমে থাকা প্লাস্টিক মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে, যার ফলে বাড়ছে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ।

এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যেই ষষ্ঠবারের মতো বসছে বিশ্বনেতাদের বৈঠক। লক্ষ্য—প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে একটি বৈশ্বিক চুক্তিতে পৌঁছানো। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক দেশ এতে সম্মতি দেয়নি, যার মধ্যে অন্যতম সৌদি আরব। এর আগের পাঁচটি বৈঠকেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।

এ বিষয়ে বোস্টন কলেজের মহামারি বিশেষজ্ঞ ফিলিপ ল্যান্ডিগ্রান বলেন, “প্লাস্টিক দূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই জানি। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভস্থ ভ্রূণের জন্য এটি মারাত্মক। অথচ এখনো আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছি না, ফলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জীবনও হারাতে হচ্ছে।”

প্লাস্টিক উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্য বলছে, প্রথমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত, উৎপাদন কমানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, রাসায়নিকভাবে তৈরি প্লাস্টিক—যেমন কাচ, অ্যালুমিনিয়াম বা কাগজের মতো সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়। এতে সময় ও প্রচুর খরচ লাগে।

বিশ্বে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের প্রায় ৯৮ শতাংশই তৈরি হয় জীবাশ্ম জ্বালানি (গ্যাস, তেল, কয়লা) থেকে। এর ফলে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়, যার একটি বড় অংশ আসে খোলা জায়গায় এসব প্লাস্টিক পোড়ানোর কারণে। ফলে পরিবেশের পাশাপাশি বাতাসও মারাত্মকভাবে বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

ল্যানসেট-এর তথ্যমতে, বর্তমানে ব্যবহৃত প্লাস্টিকে প্রায় ১৬ হাজার ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়—যার মধ্যে রয়েছে রঞ্জক, অগ্নি প্রতিরোধক, ফিলার এবং স্থিতিশীলকারী। এসব রাসায়নিকের বেশিরভাগই মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও কোনগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রূণ, নবজাতক ও শিশুরা প্লাস্টিকের ক্ষতির প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল। এর ফলে গর্ভপাত, অকাল জন্ম, মৃতপ্রসব, জন্মগত ত্রুটি, ফুসফুসের জটিলতা, শিশু ক্যান্সার এবং পরবর্তী জীবনে বন্ধ্যত্ব বা প্রজনন সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, প্লাস্টিক বর্জ্য ভেঙে মাইক্রো ও ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হচ্ছে, যা পানি, খাবার এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও আমাদের শরীরে ঢুকছে। গবেষকরা বলছেন, এই কণাগুলো রক্ত, মস্তিষ্ক, প্লাসেন্টা, বীর্য, অস্থিমজ্জা এমনকি মায়ের বুকের দুধেও পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এখনো এই কণাগুলোর সম্পূর্ণ প্রভাব অজানা, তবুও কিছু গবেষণায় এগুলোর সঙ্গে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন—এই সংকটকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এখনই সমন্বিত ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

শীর্ষ সংবাদ | নয়ন

জে এম আলী নয়ন

জে এম আলী নয়ন

সাব এডিটর

সর্বমোট নিউজ: 6252

Share this...
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি।
আরও দেখুন
  • আমাদেরকে ফলো করুন…