লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৭টি পশুরহাট ইজারা দিয়েছেন প্রশাসন। সোমবার দুপুরে (১০ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইজারাদারদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ইজারা দেন ইউএনও। তার মধ্যে চারটি বিদ্যালয় মাঠ হলো-কেরোয়া ইউপির মানসুরা উচ্চ বিদ্যালয়, বামনী ইউপির কাজির দিঘিরপাড় সমাজকল্যাণ ও কাপিলাতুলি উচ্চ বিদ্যালয় (কেএসপি) ও সোনাপুর ইউপির রাখালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
মঙ্গলবার দুপুরে (১১ জুন) কাজিরদিঘির পাড় সমাজ কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন করেছে কাজের দিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক স্কুল এবং কাজির দিঘিরপাড় সমাজকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নিয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীরা আজীবনের মত তাদের স্কুল মাঠে গরু ছাগলের হাট বন্ধের দাবিতে নানা শ্লোগান দেয়।
প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবী, প্রতি বছর আমাদের স্কুল মাঠে একটি প্রভাবশালী মহল পশুরহাট বসান। এতে দুগর্ন্ধ ছড়ার কারণে ওই দিনগুলো স্কুল বন্ধ থাকে।
এছাড়া ঈদের সময়কালে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিন পশুরহাট বসছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের লেখা পড়া বিঘ্নিত হয়। পাশপাশি গরু ছাগলের হাটের কারণে বিদ্যালয় মাঠ অধিকাংশ সময় কর্দমাক্তসহ চলাচল নানাভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। এসব কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ভালো শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হতে চায় না।
বামনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন মুন্সী বলেন, মঙ্গলবার ও বুধবার পশুর হাটের কারণে পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়ের শ্রেণী পাঠ কার্যক্রম সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে। হাটের পর দেখা যায়, পুরো বিদ্যালয় মাঠে পশুর গোবরসহ আবর্জনায় ভরপুর থাকে। শিক্ষার্থীরা হাটাসহ মাঠের মধ্যে খেলাধুলা করতে পারে না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান খান এ বিষয়ে বলেন, ৪টি জায়গায় যে স্কুল মাঠে পশুরহাট বসে তা আমাকে কেউ বলেনি। বিদ্যালয়ের মাঠ ইজারা দেয়া হয়নি। এটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


