আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে আইনে যা আছে, বাস্তবে তা না মেনে কোনো সংলাপ হতে পারে না বলে মনে করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলের সঙ্গে সংলাপে বসতে আইনে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, সংলাপ হতে হলে কিছু আইনি জিনিস যেগুলো বাস্তবে আছে সেগুলোকে মেনে সংলাপে আসতে হয়। সেগুলো না মানলে সংলাপ হয় না।’
রবিবার (১৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থবহ সংলাপে বসতে বলেছে।
আরও পড়ুন— গাইবান্ধায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধিদলটি। পাঁচদিনের মিশন শেষে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনসহ অংশীজনদের কাছে পাঁচটি সুপারিশ করেছে।
বিরোধীদের সাজা দিতে সেল করেছে সরকার। ‘গায়েবি’ মামলায় দ্রুত সাজা দিতে আইন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ শাখা খোলা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ শাখা খোলা হয়েছে, যে শাখার কাজ হলো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও গায়েবি মামলার তালিকা করে নির্দিষ্ট কিছু মামলার দ্রুত বিচার করে সাজা দিতে আদালতকে নির্দেশ দেওয়া।’
আরও পড়ুন— বিদেশিদের কাছে আমরা যাই না, তারাই আসেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন- আমি ওনাকে (ফখরুল) একজন ভদ্রলোক হিসেবে চিনি। ২০১৪ সালে যখন আমি প্রথম আইনমন্ত্রী হই, তখন থেকেই কিন্তু আমরা একটা সেল করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল মামলার জট কমানো। এখনো সেই সেলটা আছে। কিন্তু এটাকে কেউ যদি ভিন্ন খাতে নিয়ে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের স্বার্থে জনগণকে বিভ্রান্ত করেন, তবে আমার দুঃখিত হওয়া ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’
খালেদা জিয়ার কিছু হলে প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হবে- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আনিসুল হক বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে, যে যা খুশি তা-ই বলতে পারে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, দেশে একটা আইন আছে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন আইনের গতিতে চলবে।’



