লক্ষ্মীপুরের কমলগর উপজেলার পাটারীর হাট এলাকায় জারিদোনা খালের উপর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ব্রিজের তিনটি গার্ডার দেবে গেছে। বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো ব্রিজ। এতে সরকারের কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়বে স্থানীয় কয়েক লাখ মানুষের।
সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে ঠিকাদারদের খামখেয়ালি এবং নিজেদের সুবিধা মতো ব্রিজটি নির্মাণ করায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ব্রিজটি নির্মাণ করছেন ভোলার ইলি এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এতে কোন রকম তদারকি করেনি উপজেলা প্রকৌশলী সহ দায়িত্বরত উপ সহকারী প্রকৌশলী। কাজের মান নিয়ে অনেক অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, গার্ডার ঢালাইয়ের পূর্বে নিন্মমানের সেন্টারিং করা হয়েছে। এবং পানির উপর দায়সারা খুটি দিয়ে সেন্টারিং করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢালাইয়ের কাজে পাথরের কংকর ও বালি সহ নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এমনটি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রিজটির তিনটি গার্ডার অন্তত ৫ ইঞ্চি দেবে যায়। নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের সময় উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার ও উপ সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম উপস্থিত থাকার কথা। অথচ তাদের অনুপস্থিতিতে দায়সারা ও নিন্মমানের নিমার্ণ সামগ্রী ব্যবহার করে গার্ডার ঢালাই করে ঠিকাদারের শ্রমিকরা। পরবতীর্তে দুই দিনের মাথায় সেটি দেবে যায়।
কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্যমতে, ব্রিজটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ২০৪ টাকা। চলতি বছরের ২০ ফ্রেব্রুয়ারী কাজটি শুরু হয়। আগামী বছরের ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন কাজ বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।
পাটরাীর হাট ইউনিয়নের হারুন পাটওয়ারী বলেন, ঠিকাদারের লোকজন কাজে অনিয়ম করেছে। প্রতিটি ঢালাইয়ের সাথে পরিমান মতো সিমেন্ট ব্যবহার করেনি তারা, ঢালাইয়ের সময় কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন থাকেনা। ঠিকাদারের লোকজন তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বাঁধা দিলে তারা লোক দেখানো সাময়িক ভালো করে, লোকজন চলেগেলে পুনরায় অনিয়ম করে যায়। থাকেন না উপজেলার কোন কর্মকর্তা, স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে কাজটি তদারকি করে উপজেলা প্রকৌশল সোহেল আনোয়ার। অথচ নির্মাণাধীন ব্রিজের তদারকির দায়িত্ব উপ সহকারী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলামের। নিয়মিত তদারকি করছেন না তিনি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যডভোকেট রাজু বলেন, ঢালাই মিক্সারের সময় স্থানীয় লোকজন কয়েকবার বাধা দেয়। আমি বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে জানাই, তিনি কি দায়িত্ব পালন করেছে সেটি জানিনা। তবে কাজের অনেক অনিয়ম রয়েছে, যার কারণে ব্রিজটির তিনটি গার্ডার দেবে যায়। এসব গার্ডার ভেঙ্গে পুনরায় নির্মাণ করার দাবী জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী বলেন, অনিয়মের বিষয়টি আমরা শুনেছি, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েকবার বলা হয়েছে, ব্রিজের গার্ডার কেন দেবে গেছে এটার কার জানিনা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ কাজের মান নিন্মমানের হচ্ছে। দেবে যাওয়া গার্ডার যেন ভেঙ্গে পুনরায় করা হয় আমরা জোর দাবি করি।
নিন্মমানের কাজের বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ঠিকাদারের পক্ষে লিটন ভোলায় আছেন বলে জানান, অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাসরি এসে কথা বলবেন। পরবতীর্তে নেটওয়ার্ক সমস্যা, কথা শুনা যাচ্ছেনা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
গার্ডার দেবে গেছে বিষয়টি স্বীকার উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলেন, যে কোন কারনে সেটেলম্যান হয়েগেছে। এটা ঠিকাদারের অবহেলা, তিনি বলেন তিনটি গার্ডার ভেঙ্গে নতুন করে সেন্টারিং করে পুনরায় গার্ডার তৈরি করা হবে। এসময় বিভিন্ন অনিয়মের কথা তিনি এড়িয়ে যান।
নির্মিত ব্রিজটি ব্যবহার করে কমলনগরের পাটারীর হাট, খায়ের হাট এবং মৌলভীর টেকে যান চলাচল সহ এসব এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত। একইসাথে রামগতির আলেকজান্ডারের মানুষও এই ব্রিজটি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।


